নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের বহুল প্রচলিত স্লোগান—‘দলিল যার, জমি তার’। কিন্তু দলিল, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও নিজের জমি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা মো. আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে বৈধভাবে কেনা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।
ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক জানান, ২০১২ সালে কেরানীগঞ্জ থানাধীন বীর বাঘের মৌজায় তিনি ১১২ শতক জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। এর মধ্যে ৯৬ শতক তার নিজের নামে এবং ১৬ শতক স্ত্রী নাজমা বেগমের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। জমি কেনার পর থেকে তারা নিয়মিত নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করে আসছেন এবং জমিটি ভোগ-দখলেও ছিলেন।
জমির বিবরণ অনুযায়ী, ৭৭৩ নম্বর দাগে ৭২ শতক পুকুর, ৩৮৩ নম্বর দাগে ৬ শতক নাল, ৩৮০ নম্বর দাগে ১৮ শতক বাড়ি এবং ৭৭৮ নম্বর দাগে ১৬ শতক জমি রয়েছে, যা নাজমা বেগমের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।
১৯৭৪ সালের দলিল নিয়ে প্রশ্ন :
আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী হাজী রহমান ও হাজী সামাদের কারণে তার জমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, ১৯৭৪ সালের একটি সাফ কবলা দলিলকে বাতিল দেখিয়ে ঢাকার মহানগর আদালতে ২৪৪/২২ নম্বর মামলা করা হয়।
মালেকের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার শুনানির সময় আদালত তেজগাঁও সাতরাস্তা ভূমি অফিস থেকে ১৯৭৪ সালের দলিলের মূল ভলিউম তলব করেন। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী ভলিউম আদালতে হাজির না করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে দলিল নম্বর ঠিক থাকলেও ভলিউমের সংশ্লিষ্ট পাতা ‘সাদা’ বলে উল্লেখ করা হয়।
রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ:
ভলিউমের পাতা সাদা থাকার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আব্দুল মালেক বলেন, তার সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও কীভাবে ভলিউমের পাতা সাদা হলো, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থের বিনিময়ে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করে পুরোনো দলিলের ভলিউমের পাতা সাদা করে থাকতে পারে।
আব্দুল মালেক আরও বলেন, এর আগে তার জমির কাগজপত্র নিয়ে একাধিক মামলা হলেও তিনি আইনিভাবে সেসব মামলায় জয়ী হয়েছেন। এরপরও নতুন করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
ন্যায়বিচারের দাবি:
জমি হারানোর আশঙ্কায় থাকা আব্দুল মালেক ও তার পরিবার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আব্দুল মালেক বলেন, “আমার বৈধভাবে কেনা জমি ও পরিবারকে রক্ষা করতে চাই। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আমাকে ন্যায়বিচার দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাজী রহমান ও হাজী সামাদের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।