নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয়করণ করা দেশের বিভিন্ন কলেজের ৬৯০ জন শিক্ষককে জাতীয়করণের আগে যে সপ্তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হতো, সেই গ্রেড পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তিন বছর আগে দায়ের করা একটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সোমবার এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন আদালত।
বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রিটকারীদের আইনজীবীদের তথ্যমতে, জাতীয়করণের আগে বিভিন্ন কলেজে কর্মরত প্রায় ৬৯০ জন প্রভাষক সপ্তম গ্রেডে বেতন পেতেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পর তাঁদের বেতন গ্রেড কমিয়ে নবম গ্রেডে নির্ধারণ করা হয়। এতে তাঁরা চাকরিগত সুবিধা ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রুলের চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত শিক্ষকদের জাতীয়করণের পূর্ববর্তী সপ্তম গ্রেড বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান ও মো. হারুনুর রশীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জামালুর রহিম খান (জে আর খান রবিন)।
রিটকারীদের আইনজীবী সিদ্দিক উল্লাহ জানান, এর আগে একই ধরনের একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ৪৫ জন প্রভাষকের পক্ষেও হাইকোর্ট সপ্তম গ্রেড দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার ২০২৩ সালে দায়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আরও ৬৯০ জন প্রভাষকের ক্ষেত্রে একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলো।
তিনি বলেন, জাতীয়করণের পর যেসব শিক্ষক গ্রেড কমে যাওয়ার কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে তাঁদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জামালুর রহিম খান।