সময়ের চিত্র ডেস্ক:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মীয়কে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে পুলিশ বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন— অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার, তাদের তিন মেয়ে মিম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শ্যালক রসুল। পরিবারটি কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মরদেহগুলো ঘরের ভেতর বিভিন্ন স্থানে পড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু কাগজপত্র ও মাদকসেবনের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও যৌতুক নিয়ে বিরোধ চলছিল। নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ফোরকান প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন। এছাড়া শ্যালক রসুলকে চাকরির কথা বলে ডেকে আনা হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তবে ঘটনার আগের রাত পর্যন্ত পরিবারটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখা গেছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ঘটনাটির পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহ করছে। মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।