ফিল্মি কায়দায় চরফ্যাশনে বিএনপি নেতার ছেলের কলেজছাত্রী অপহরণ

কুয়াকাটা থেকে উদ্ধার, গ্রেফতার -২

চরফ্যাশন প্রতিনিধি:

ভোলার চরফ্যাশন এক কলেজ ছাত্রীকে অজ্ঞান করে ফ্লিমি স্টাইলে অপরণের ২ দিন পর শুক্রবার ভোরে কুয়াকাটার একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অপরহরণকারী জাবেদ হচ্ছে উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ছালাউদ্দিনের বড় ছেলে। কলেজ ছাত্রী

উদ্ধারের সময় জাবেদ কৌশলে পালিয়ে যায়। তার সহযোগী মোঃ হাসনাইন (২১) ও মাক্রো চালক মেহেদী হাসান ( ২৬) কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা

হয়েছে। কুয়াকাটা থেকে পুলিশের এসআই ছিদ্দিকুর রহমান উদ্ধার হওয়া ছাত্রী ও আটক দুইজনকে নিয়ে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওহনা হন। রাত সাড়ে ১১টা) তারা

থানায় পৌঁছায় বলে জানান ওসি মাহামুদ আল ফরিদ। তবে উদ্ধারের বিষয় তিনি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে জানান অভিযুক্ত অপরণকারী জাবেদকে গ্রেফতারে

পুলিশ টিম কাজ করছে।

ওসি জানান, স্থানীয় ফাতেমা মতিন কলেজের একাদশ শ্রেনির এক ছাত্রী গেল বুধবার কলেজ থেকে ফেরার পথে কয়েক যুবক তার গতিরোধ করে নাকে ক্লোরোফম (

চেতনা নাশক) ছিটিয়ে অজ্ঞান করে ফ্লিমই স্টাইলে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এমন কি ফোনে মেয়ের মা’কে জানায় ,কলেজ ছাত্রী তার কাছে আছে। তাকে

খোঁজার প্রয়োজন নেই। এর পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় ওই কলেজ ছাত্রীর পিতা শিক্ষক কামরুল

হাসান নিঁখোজ ও অপহরণ অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগ দেন। পুলিশের এসআই মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম অনুসন্ধান শুরু করে। স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, মোঃ ছালাউদ্দিনের ছেলে জাবেদ ওই কলেজ ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ওই ছাত্রীকে অপহরণ কওে কুয়াকাটায় নিয়ে

যায়। কুয়াকাটার একটি হোটেলে অবস্থানকালে বিষয়টি সন্দেহজনক হলে এক পর্যটক সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯ কে অবহিত করে। মহিপুর থানা পুলিশ ওই শিক্ষার্থীকে

উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জাবেদ হোটেলের টয়লেট দিয়ে পালিয়ে যায়। তার দুই সঙ্গীকে পুলিশ আটক করে। অপহরণকারী জাবেদের পিতা আহম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ছালাউদ্দিন স্বীকার করেন তার ছেলে জঘন্যতম কাজ করেছে। তার ছেলে জাবেদ কৃষি বিষয়ে ডিপ্লোমা পড়ছে। কিন্তু এমন কাজ করবে এটা ভাবতেই পারছেন না জাবেদেও পিতা ছালাউদ্দিন। মেয়েটি সম্মানের সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে এ জন্য

তিনি সুকরিয়া আদায় করেন। ওই ছাত্রীর কলেজ শিক্ষক মোঃ মইন জানান, কলেজ থেকে ফেরার পথে এভাবে কলেজ ছাত্রী অপহরণ ঘটনা তাদেরকে বিস্মিত করেছে।

অপহরণকারীর গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর