সময়ের চিত্র ডেস্ক:
পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, এই অভিযানে মার্কিন সেনাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, “অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪”-এর অংশ হিসেবে তাদের নৌ ইউনিট দুবাই উপকূল ও বন্দরসংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন থাকা মার্কিন ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে একটি সমন্বিত বা ‘হাইব্রিড’ অভিযান পরিচালনা করেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অভিযানে মার্কিন সামরিক অবস্থান ও সরঞ্জামে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি (LCU) ধরনের জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে ইরানের তৈরি কদর-৩৮০ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও আরও বিভিন্ন ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বাহিনীটি আরও দাবি করেছে, প্রাথমিক মাঠ-প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে গেছে এবং অন্য তিনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দেখা দিয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, দুবাই উপকূলের কাছে অবস্থিত একটি মার্কিন ড্রোন ইউনিটের কর্মীদের সমাবেশস্থল এবং একটি হোটেলেও হামলা চালানোর কথা উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এ হামলায় বহু মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলার জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আসছে।
এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ ও ইসরাইলি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে।