সময়ের চিত্র ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থলপথের সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মধ্যে ব্যাপক জনবল প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক মহল থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযানকে তারা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে এবং এ লক্ষ্যে বিপুলসংখ্যক যোদ্ধাকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
ইরানি সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ যোদ্ধাকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি স্থল হামলা হলে সেটি হামলাকারী বাহিনীর জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে খার্গ দ্বীপ, যা ইরানের জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট তেল রপ্তানির বড় অংশ এই অঞ্চল ঘিরেই পরিচালিত হয়। ফলে কৌশলগতভাবে এই এলাকাকে সুরক্ষিত রাখতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধাসামরিক কাঠামোর বিভিন্ন অংশে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসিজ, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বহু স্বেচ্ছাসেবী আগ্রহ দেখাচ্ছেন। নিয়োগকেন্দ্রগুলোতেও তরুণদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইরানি কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে “জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি” হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় জনবল ও সামরিক সক্ষমতা দেশটির হাতে রয়েছে এবং বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য তারা প্রস্তুত।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান আগেই ইঙ্গিত দিয়েছে, এই কৌশলগত নৌপথে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, এই অঞ্চলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা হলে তার জবাবও কঠোর হতে পারে।
এর আগে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বড় আকারের সামরিক প্রস্তুতির বার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধ থেকে নিরুৎসাহিত করার কৌশলও হতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—সবকিছুর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার মার্কিন স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে বড় আকারের যুদ্ধপ্রস্তুতির বার্তা সামনে আসে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।