সময়ের চিত্র ডেস্ক:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বামপন্থি কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেই সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন।
আন্দোলনের শুরু ও দমন-পীড়ন নাহিদ জানান, ১৫ জুলাই প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হলে সেদিনই ছাত্রলীগ পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়। নারী শিক্ষার্থীরাও এ হামলার শিকার হন। আহত অনেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলেও সেখানেও বাধা ও নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়।
১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ কয়েকজন নিহত হন। এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। একপর্যায়ে দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এক দফার ঘোষণা:
নাহিদ তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন একত্র হয়ে সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করে। এতে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় এবং শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি নেওয়া হয়।
৬ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে সরকার কারফিউ জারি করে এবং নেটওয়ার্ক বন্ধ করার পরিকল্পনা করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্দোলনকারীরা একদিন আগে থেকেই ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করে।
ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা:
নাহিদ আরও জানান, আন্দোলনের সময় নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে সমন্বয়করা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাকে সরকারপ্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
৫ আগস্ট লাখো মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করলে শাহবাগ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সেখান থেকে মিছিল গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে খবর আসে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেছেন।