আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম :
গত ৪দিন ধরে টানা ভারি বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে জেলার ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তিস্তা, দুধকুমার নদের পানি কমে স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে কুড়িগ্রাম জেলার নিম্ন অঞ্চলের চরগুলো এখনো পানির নিচে রয়েছে। এরইমধ্যে ১১২৭ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে রয়েছে। যার মধ্যে ১৭০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার, নুন খাওয়া পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার এবং দুধকুমার পাটেশ্বরী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফুলবাড়ির বারোমাসিয়া নদীর পাড়ের বাসিন্দা অনিল চন্দ্র জানান, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বাড়ছে অনেক। নিচু এলাকার আমন ধানক্ষেত ডুবে গেছে।
রাজারহাটের তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা ছালাম মিয়া বলেন, ‘তিস্তার পানি কমলেও আমার মাষকলাইক্ষেত এখনও পানির নিচে। নষ্ট হয়ে গেছে সবজি ক্ষেতও।’
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, পানি নিচু চরগুলো থেকে এখনও না নামায় এসব নদ-নদীর অববাহিকায় ১২০ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৪৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি ও ৫ হেক্টর জমির মাষকলাই তলিয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদী সমূহের পানি সমতলে আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে তিস্তা ও দুধকুমার নদীসমূহ বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং ধরলা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।