ভারতের কাছে ৫০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ 

ক্রীড়া ডেস্ক :

২২ গজে লড়াইয়ের ছিটেফোঁটাও নেই। নিবেদনে প্রবল ঘাটতি। শ্রেষ্ঠত্বের তাড়না নেই। মাঠের ক্রিকেটে এতদিন এসব চিত্র ফুটে উঠেছে বেশ ভালোভাবেই। বিশ্বকাপের মতো আসরে যে জৌলুস থাকার কথা, যে শরীরী ভাষা থাকার কথা তা একদমই ছিল না। সেজন্য ক্রিকেটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়।

 

কিন্তু মাঠের বাইরেও যে পরিকল্পনা সাজাতে হিমশিম খাবে পুরো দল, সেটা কতজন ভাবনায় এনেছিল? স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় ম্যাচ। দিনের ম্যাচে টস জেতা মানে ম্যাচ জেতার সমান! কারণ টস জিতলে ব্যাটিং নিয়ে বড় পুঁজি পাওয়া এই মাঠের চিরায়িত রেকর্ড।

 

ভারতের বিপক্ষে শান্ত টস জিতে চাইলেন ফিল্ডিং। অথচ রোহিত ব্যাটিং করার কথাই বলেছিলেন। টস তো যেন-তেন! দল নির্বাচনে টিম ম্যানেজমেন্ট আরো চমক দেখাল। ভারতের বিপক্ষে তাসকিন কিংবা শরিফুলকে ছাড়াই মাঠে নামল বাংলাদেশ। বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান জাকের আলীকে দলে নিল তাসকিনের জায়গায়! মাত্র পাঁচ বোলার নিয়ে ২০ ওভার করার পরিকল্পনা?

 

মাঠের লড়াইয়ের শুরুতে আবারো চমক। ভারতের দুই ওপেনার যেখানে বাঁহাতি পেসারদের বিপক্ষে ভুগছিল সেখানে বাংলাদেশ দুই প্রান্ত থেকে দুই স্পিনারকে নিয়ে শুরু করে আক্রমণ। তাতে যা হবার তাই হয়েছে। ভারত এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানের জুটি পায় ওপেনিং থেকে। আর শেষটাও রাঙিয়ে তারা গড়ে বড় পুঁজি।

আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান করে ভারত। নির্বিষ বোলিংয়ের পর হতশ্রী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ১৪৬ রানে। বাংলাদেশ ম্যাচ হেরে যায় ৫০ রানে।

 

বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা নতুন কোনো গল্প নেয়। ম্যাচ খেল, ব্যর্থ হও, ব্যর্থতা ভুলে যাও, আবার ম্যাচ খেল, আবার ব্যর্থ হও, আবার ভুলে যাও…. এসব-ই তো হয়ে আসছে নিয়মিত। কেন ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হচ্ছেন সেই উত্তর নেই কারো কাছেই। অধিনায়ক নিজেও জানেন না দলের সমস্যা কোথাও? প্রতিদিনই ভালো করার আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশায় গুঁড়েবালি হয়ে যায়।

 

ভারতের বিপক্ষেও চিত্র পাল্টাল না। মন্দের ভালো আজকের ওপেনিং জুটি টিকেছিল ৩৫ রান পর্যন্ত। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। কিন্তু বড় রান তাড়া করতে যে আক্রমণাত্মক শুরুর প্রয়োজন ছিল দুই ওপেনার চাহিদানুযায়ী যোগান দিতে পারেননি। লিটন ১০ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় ১৩ রান করে ফেরেন ড্রেসিংরুমে। তানজিদ টিকে ছিলেন ইনিংসের অর্ধেকতম ওভার পর্যন্ত। তার ইনিংসটিও ছিল দৃষ্টিকটু। ৩১ বলে করেন মাত্র ২৯ রান। তিনে নামা শান্ত কেবল কিছুটা আশা দেখিয়েছেন। কিন্তু তার ৩২ বলে ৪০ রানের ইনিংসটিও যথেষ্ট ছিল না। বাকিদের ব্যর্থতার গল্প হতাশায় মোড়ানো। শেষ দিকে রিশাদ ১০ বলে ২৪ রান না করলে পরাজয়ের ব্যবধানটা আরো বড় হয়ে যেত।

 

টানা পঞ্চম জয় পাওয়া ভারতের বোলিংয়ের সেরা ছিলেন কুলদ্বীপ যাদব। ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট পেয়েছেন আর্শর্দ্বীপ ও বুমরাহ। হার্দিকের পকেটেগেছে ১ উইকেট।

এই বিভাগের আরো খবর