ভোলা প্রতিনিধি:
রাজকীয় আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ভোলায় দৌলতখান উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক সুকুমার চন্দ্র দাসকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছে স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৩৬ বছর চাকরি জীবন শেষে গেলো ৬ জুন অবসর গ্রহন করেন তিনি। সকালে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে প্রিয় শিক্ষক কে সম্মানিত করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক এমন রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া খুশি হয়ে স্থানীয় এমপি স্যালুট জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের।
বিদায় সব সময় বেদনার। তবে কখন কখন সেই বিদায় স্বরনীয় হয়ে থাকে। এমনি এক বিদায়ী সংবর্ধনা পেয়েছেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার ৭৬ নং পশ্চিম জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক সুকুমার চন্দ্র দাস।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে প্রিয় শিক্ষককে বাস খোলা গাড়ীতে করে বাসা থেকে নিয়ে আসা হয় বিদ্যালয়ে । তারপর ফুল দিয়ে বরন করে নেওয়া হয় প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গনের মাঠে। তার সঙ্গে ছিলো তার প্রিয় শিক্ষার্থীরা, মা ও শশুড় । জ্ঞান অভিভাবকের এমন বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমন রাজকীয় আয়োজন ছিলো দেখার মতো। স্কুলে পৌছানের পরে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বরন করে নেয় সবার প্রিয় সুকুমার স্যারকে।
ভোলার দৌলতখান উপজেলার ৭৬ নং পশ্চিম জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রিয় শিক্ষক কে বিদায়ী জানাতে বর্তমান, প্রাক্তন হাজারো শিক্ষার্থী ও সুধীজনের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। প্রিয় শিক্ষককে অবসর জনিত বিদায়ী শুভেচ্ছা জানাচ্ছে সবাই। তার বিদায় অনুষ্ঠান যোগদিতে বিদেশ থেকে ও দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী মো: সুমন জানান,সুকুমার স্যার শুধু একজন শিক্ষককি ছেলেন না,তিনি আমাদের পিতার মতো শাষন ভালোবাসা স্নেহ দিয়ে মানুষ করেছেন। আজ তিনি বিদায় নিলেও তার ভালোবাসা কখন আমরা ভুলবোনা।
সাবেক শিক্ষার্থী তামান্না, রাসেলসহ অন্যরা বলেন, তিনি আমাদের আলোর পথ দেখিয়েছেন। তার দেওয়া পথে আমরা অনেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি, স্যারের স্মৃতি ভোলার নয়।এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন- প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, ফয়সাল মিয়াজী, জামাল, আহসান, ইমন, মাকসুদ ও সনজু প্রমুখ।
প্রিয় স্যারের প্রতি আবেগ অনুভূতির প্রকাশ করেন ছোট ছোট সোনামনিরাও। বিদ্যালয়ে চতুর্থ ও ৫ম শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আজকের পর থেকে স্যারকে আর স্কুলে দেখবো না। এটা খুবই কষ্টের।
৩৬ বছরের কর্মজীবনে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ভালোবাসার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেদে ফেলেন সুকুমার চন্দ্র দাস। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি তাদের (শিক্ষার্থীদের) কিছুই দিতে পারিনি। কিন্তু তারা আমাকে এভাবে সম্মান করবে তা কখনও ভাবিনি। এটা আমার জন্য গর্বের ও আনন্দের।
শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষকের বিদায় বেলায় শত শত শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার চন্দ্র দাস।
অশ্রুসিক্ত নয়নে ফুল দিয়ে বরণ করে শেষ বিদায় জানানো হয় তাকে। একজন শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের এমন শ্রদ্ধা-ভালোবাসা অনুকরণীয় থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
কর্মজীবন শেষে নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক চাকরিজীবীকে নিদিষ্ট একটা সময়ে অবসর নিতে হয়। কর্মগুণে সেই বিদায় যেমনি স্মৃতি হয়ে থাকে, তেমনি ভালোবাসায় মুগ্ধতা ছড়ায়। এভাবেই প্রিয় শিক্ষককে রাজকীয় বিদায় জানালেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
সুকুমার স্যারের এমন বিদায় অনুষ্ঠান অন্য শিক্ষকদের আরো অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের।
সুকুমার দাসের শূন্যতা কখনই পূরণ হবার নয় বলে মনে করছেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহে আলম হাওলাদার। তিনি বলেন, সুকুমার দাস অনেক ভালো শিক্ষক ছিলেন। তার মতো এমন একজন শিক্ষক পেলে আরও ভালো হবে।
শিক্ষককে বিদায়ী উপলক্ষ্য হাজারো শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। সেখানেও ব্যস্ততার কমতি নেই।
শত শত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা চোখের জ্বলে বিদায় দিয়েছে প্রিয় শিক্ষককে। বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা,আলোচনা সভা ও স্মৃতি চারন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা- ০২ (দৌলতখান- বোরহানউদ্দিন) আসনের সংসদ আলী আজম মুকুল।
শিক্ষকে এমন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে জানান সংসদ সদস্য।
সুকুমার চন্দ্র দাস ১৯৮৮ সালে ১৫ জিন ভোলার দৌলতখান উপজেলার ৭৬ নং পশ্চিম জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচীত হয়েছেন।