বাঞ্ছারামপুর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১১ নম্বর ছলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরুর মুহূর্তে পণ্ড হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ৩ আগস্ট (সোমবার) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, বিদ্যালয়ের সভাপতি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি আয়োজনে ছিলেন বিশিষ্ট প্রবাসী ব্যবসায়ী মো: মাইনিদ্দিন চৌধুরী, সঞ্চালনায় বিপ্লব আহম্মেদ ও সহকারি শিক্ষক মো: ওমর ফারুক।
অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের নির্দেশে প্যানেল চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম,খায়ের উদ্দিনের নেতৃত্বে আশাবুদ্দিন,হযরত আলী,হানিফ,সাদ্দাম সহ ৭/৮ জনের অতর্কিত হামলায় পোস্টার,ব্যানার ছিড়ে ফেলা সহ যাবতীয় পুরুষ্কার, চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।এ ঘটনায় উপস্থিত সভাপতি বলেন আমাদের অনুষ্ঠান প্রায় শুরু হওয়ার পথে আমাদের সকল প্রস্তুতি শেষ তখনই এই হামলা চালানো হয় যা আমাদের জন্য লজ্জার ও ঘৃনার আমি এর সঠিক বিচার চাই। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন শিক্ষা ও মেধাকে সম্মান জানাতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান এভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শিশু শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে হতাশ হয়েছে এবং তাদের অর্জনের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। তাই আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ শিক্ষা অফিসারকে জানাবো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই যেনো যতই প্রভাবশালী লোক হোক আর যেনো এই ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটাতে পারে। সম্মানিত অভিভাবক গন এই অপ্রীতিকর ও ভয়ংকর ভয়-ভীতি দেখানো ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ আর সমালোচনায় ঝড় তুলেন সাবেক ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান গেংদের বিরুদ্ধে।
এছাড়া স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো বিরোধের কারণে শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান ব্যাহত হওয়া উচিত নয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ও প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।