ইরান যুদ্ধে ক্রুজ মিসাইলের বড় অংশ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দূরপাল্লার জেএএসএসএম-ইআর (JASSM-ER) ক্রুজ মিসাইলের বিশাল অংশ ব্যবহারের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য অন্য অঞ্চলে সংরক্ষিত অস্ত্রভাণ্ডার থেকেও এখন এই মিসাইল সরিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র এখন সেন্ট্রাল কমান্ডের যুদ্ধাঞ্চল এবং যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি আরও তীব্র আকার নিচ্ছে।

প্রতিবেদনগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি জেএএসএসএম-ইআর মিসাইল ছিল। তবে গত কয়েক সপ্তাহের সামরিক অভিযানে এর মধ্যে এক হাজারেরও বেশি ব্যবহার হয়ে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য অবশিষ্ট মজুদ দ্রুত কমে আসছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অবশিষ্ট মজুদ দিয়ে বড় পরিসরের দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কারণ, এ ধরনের উন্নত মিসাইলের উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ, আর নতুন করে ঘাটতি পূরণ করতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই দাবিকে পুরোপুরি সমর্থন করছে না। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে এবং আরও কিছু আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একাধিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস হওয়ার খবরও সামনে এসেছে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ব্যয়বহুল উন্নত অস্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তেহরানের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করা হবে। তার এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এছাড়া আঞ্চলিক মহলে এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো—বিশেষ করে খারগ দ্বীপ—কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

উন্নত ক্রুজ মিসাইলের মজুদ কমে আসায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন তুলনামূলক কম খরচের অস্ত্র ব্যবহারের দিকেও ঝুঁকছে বলে বিভিন্ন সামরিক সূত্রে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পুরোনো বি-৫২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে জেডিএএম (JDAM) ধরনের গাইডেড বোমা নিক্ষেপের কৌশলও সামনে আসছে।

অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দেশটি ইতোমধ্যে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর অস্ত্রের মজুদেও চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বখ্যাত প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, যুদ্ধের তীব্রতা ও অস্ত্র ব্যবহারের গতির সঙ্গে তাল মেলানো সহজ হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেনঅআআআ বিশ্লেষকরা।

এই বিভাগের আরো খবর