পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার সুজানগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে চায়না খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম ও মানিকহাট ইউনিয়নের ইসলাম প্রামাণিকের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইসলাম প্রামাণিকের সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হলে প্রতিপক্ষ রাফিউল সমর্থকেরা হামলা চালায়। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাদের সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে ঈশ্বরদী পৌরসভার পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের আরেকটি সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
ইসলাম প্রামাণিক দাবি করেন, আগের দিন তার স্বজনকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তবে রাফিউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তার নাম জড়ানো হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।