ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ঝরে গেল ১২ প্রাণ, শোকে স্তব্ধ কুমিল্লা

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর বেদনায়; স্বজন হারানো মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।

শনিবার ভোররাতের এ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের তিনজন—যশোরের পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)। স্বজন হারিয়ে পিন্টু বলেন, “ঈদের আনন্দে তারা নানা বাড়ি যাচ্ছিল, এখন আমি কী নিয়ে বাঁচবো জানি না।”

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। এতে মুহূর্তেই ঘটে ভয়াবহ সংঘর্ষ। বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেন।

ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন অন্তত ৮ জন। নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রোববার স্বজনরা সেখানে ভিড় করে লাশ বুঝে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

এই দুর্ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন পুরো পরিবার, কেউ হারিয়েছেন বাবা-মা বা প্রিয়জনকে। নিহত জুহাদ বিশ্বাসের স্ত্রী রুমি আক্তার ছোট্ট সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, ঈদের আগে মেয়েকে দেখতে আসার পথে তার স্বামী আর ফিরে আসেননি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকেও এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিকভাবে গেটম্যানের অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও নিরাপত্তাহীন রেলক্রসিং ব্যবস্থার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই বিভাগের আরো খবর