সময়ের চিত্র ডেস্ক :
নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার পর সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি দিনের কাজ শুরু করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী কার্যালয় ও সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সংস্কারকাজ চলমান থাকায় আপাতত সচিবালয় থেকেই নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজকের কার্যসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ১১টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে একটি কার্যকর ও টেকসই কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। সেখানে বিতরণব্যবস্থা, উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়ন এবং কারিগরি বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসে এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বিকেল ২টায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং নদ-নদী, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে দখলমুক্ত জলাশয় ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত উপস্থিতি ও ধারাবাহিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের প্রথম দিকের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে সামাজিক সুরক্ষা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।