আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রাম সদরের একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ফাইনাল পরীক্ষায় গণটোকাটুকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং এক শিক্ষককে পরীক্ষা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের দাসেরহাট এলাকায় অবস্থিত কুড়িগ্রাম হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক।
জানা যায়, কলেজটির প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। পাঁচটি কক্ষে মোট ২৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩৪ জন সকাল শিফটে এবং বাকি পরীক্ষার্থীরা বিকেলের শিফটে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছাঃ রীনু বেগমের অনুমতিক্রমে পরীক্ষার হলরুমে প্রবেশ করে দেখা যায়, ডিউটিরত শিক্ষকের উপস্থিতিতেই অধিকাংশ পরীক্ষার্থী বোর্ড বই ও নোট গাইড দেখে পরীক্ষার খাতায় লিখছে। বিষয়টি ডিউটিরত শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত করা হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।
পরে সাংবাদিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে এসে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক। একই সঙ্গে ওই কক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ডাঃ খগেন্দ্র নাথ বর্মনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের একটি অংশের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নকলের মহোৎসব চলে আসছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছাঃ রীনু বেগম। তিনি বলেন,
“আমি অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি নিজে প্রতিটি কক্ষ পরিদর্শন করেছি, তখন কেউ নকল করেনি। পরে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেলের পরীক্ষায় পুরো সময় ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। ভবিষ্যতে সব পরীক্ষায় আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।”