নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জমতে শুরু করে মানুষের ঢল। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে স্তব্ধ পরিবেশ ভেঙে ফুল ও জাতীয় পতাকা হাতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সর্বস্তরের মানুষ। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়তে থাকে।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সকাল থেকে সাধারণ মানুষের প্রবেশ উন্মুক্ত হলে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। লাল-সবুজের পোশাক, হাতে ফুল ও পতাকার সমারোহে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনস্থলে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিজয় দিবসের ভোরেই শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে নীরবতা পালন ও বিউগলের করুণ সুর পরিবেশকে আরও গম্ভীর করে তোলে।
রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে শহীদদের স্মরণে ফুল দেন। অনেক অভিভাবক শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের ইতিহাস তুলে ধরেন।
স্মৃতিসৌধ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।
এদিন স্মৃতিসৌধের চারপাশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, ব্যানার ও ফেস্টুনে লাল-সবুজের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের চোখেমুখে গর্ব আর শ্রদ্ধার আবেশে জাতীয় স্মৃতিসৌধ হয়ে ওঠে বিজয়ের চেতনায় প্রাণবন্ত।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মাধ্যমে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ে পৌঁছায়। এই দিনটি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ ও মর্যাদার চিরন্তন প্রতীক হয়ে আছে।