গত ১৭ নভেম্বর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার রায়ের দিন নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে সিংগাইর উপজেলা যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু তাকে কোর্টে সোপর্দ না করে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে রাতের আঁধারে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সিংগাইর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজমের বিরুদ্ধে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, কঠোর গোপনীয়তায় কাজটি সম্পন্ন করেন ওসি। তবে কত টাকা লেনদেন হয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেনি।
সূত্রটি জানায়, নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিংগাইর থানার এসআই জসিম রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন। আইন অনুযায়ী পরদিন আদালতে পাঠানোর কথা থাকলেও রাতেই তড়িঘড়ি করে তাকে মুক্ত করে দেন ওসি তৌফিক আজম। পরে ওসি জানান, “আমেরিকা থেকে এক সাংবাদিকের অনুরোধে” যুবলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে তদন্তে জানা গেছে—ওসি তৌফিক আজমের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ ইউটিউবার আসিফের মাধ্যমে রুহুল আমিনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পাওয়ার পর গভীর রাতে গোপনে তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। রুহুল আমিন জামির্তা ইউনিয়নের মধুরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং সাহরাইল বাজারে স্যানিটারি ব্যবসার মালিক।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, স্বৈরাচারী সরকারের সময় রুহুল আমিন প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাপট দেখাতেন। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরও তিনি ‘অদৃশ্য শক্তির’ আশ্রয়ে আগের মতোই চলাফেরা করছেন। একদিন গ্রেপ্তার হয়ে রাতেই মুক্তি পাওয়ায় এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
আটকের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে রুহুল আমিন জানান, “ওসি সাহেব আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন, তাই গিয়েছিলাম। পরে ওসি সাহেব একটা বিষয়ে কথা বলে আমাকে ছেড়ে দেন।”
এদিকে গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তা এসআই জসিম বলেন, “আমি অনেক কষ্ট করে তাকে ধরেছিলাম এবং মামলার প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু পরে ওসি স্যার তাকে ছেড়ে দেন। ওসি স্যার বলেছেন—আমেরিকা থেকে একজন সাংবাদিক ফোন করে তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছেন।”
তবে সেই কথিত মার্কিন সাংবাদিকের পরিচয় যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে ওসি জেওএম তৌফিক আজমের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর্থিক লেনদেন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা আমার বক্তব্য উল্লেখ করবেন না, যিনি গ্রেপ্তার করেছেন তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করুন।”
বর্তমানে তিনি সিংগাইর থেকে বদলি হয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানায় যোগদান করেছেন।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই, আপনি থানায় কথা বলুন।”