ম্যানগ্রোভ বন রক্ষার আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষায় ম্যানগ্রোভ বনের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ম্যানগ্রোভ বন কেটে চিংড়িঘের নির্মাণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

 

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএফএফইএ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘Transforming Policy Support for Reviving Bangladesh’s Shrimp Sector’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

উপদেষ্টা জানান, চিংড়ি রপ্তানিতে জেলি ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত ও বাস্তবতা বুঝে নীতি প্রণয়ন জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

সামুদ্রিক মাছের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, অবৈধ ও নিয়ন্ত্রণহীন আহরণের কারণে গত সাত বছরে সাগরে মাছের মজুত ৭৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

মৎস্যখাতে বিদ্যুৎ বিল বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদনকারী এই খাতকে শিল্পখাতের সমপরিমাণ বিল দিতে হয়—যা অযৌক্তিক। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি সুদের হার কমানো ও বিনিয়োগ বাড়াতে একটি বিশেষায়িত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাংক করার প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদকে স্বতন্ত্র সেক্টর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈষম্য দূরীকরণে ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, খাতে অর্থায়ন বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়; কম উৎপাদনশীলতাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি প্রকৃত উদ্যোক্তাদের সামনে এসে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

বিএফএফইএ সভাপতি মো. শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ ও সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মো. তারিকুল ইসলাম জহির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই-এর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার। আলোচনা শেষে সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন সিমার্ক (বিডি) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল আহমেদ।

এই বিভাগের আরো খবর