ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে; আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। প্রায় ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

 

নিহত ও আহতদের হালনাগাদ তথ্য:

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুসারে—

ঢাকায় মারা গেছেন ৪ জন, নরসিংদীতে মৃত্যু বেড়ে ৫ জন, নারায়ণগঞ্জে প্রাণ হারিয়েছেন ১ জন।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৫৯ জন এবং মিটফোর্ড হাসপাতালে ১৩ জন।আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন এখনো চিকিৎসাধীন।

 

ঢাকায় হতাহতের ঘটনাবলি:

আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকায় আটতলা এক ভবনের পাশের দেয়াল ও কার্নিশ ভেঙে নিচে পথচারী ও ক্রেতাদের ওপর পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—

রাফিউল ইসলাম (২২) – স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, হাজী আবদুর রহিম (৪৭)মেহরাব হোসেন রিমন (১২)।

এ ছাড়া ঢাকার মুগদা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে পড়ে মাকসুদ (৫০) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

 

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—বংশাল, হাতিরঝিল, মাতুয়াইল, খিলগাঁও, কলাবাগান, নিউমার্কেট এবং ঢাকা কলেজের একটি হল।

 

নরসিংদীতে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা:

নরসিংদীতে মোট নিহত ৫ জন। বিভিন্ন স্থানে ভবনের দেয়াল ধস, ইট পড়ে কিংবা আতঙ্কে পালাতে গিয়ে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

চিনিশপুরে নির্মাণাধীন ভবনের ইট ধসে ওমর নামে এক শিশু মারা যায়; পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার বাবা দেলোয়ার হোসেন।

পলাশ উপজেলায় মাটির ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে কাজেম আলী ভূইয়া (৭৫) মারা যান।

শিবপুরে গাছ থেকে পড়ে আহত ফোরকান মিয়া (৪৫) হাসপাতালে মারা যান।

কাজীরচর এলাকায় ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে দৌড়াতে গিয়ে নাসির উদ্দিন (৬৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

জেলায় ৪০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, এর মধ্যে গুরুতর ৪৩ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জে শিশুর মৃত্যু :

রূপগঞ্জে একটি ভবনের দেয়াল ধসে ১০ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা নিহত হয়। আহত হয়েছেন শিশুটির মা ও আরও দুইজন।

 

বিশেষজ্ঞ মতামত:

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটির কম্পন ছিল তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী। গত কয়েক দশকে দেশে এত প্রাণঘাতী ভূমিকম্প দেখা যায়নি।

 

সরকারের প্রতিক্রিয়া:

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এক বার্তায় শোক প্রকাশ করে জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর