সময়ের চিত্র ডেস্ক:
আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’। এখানে তুলে ধরা হবে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসসহ গত ১৬ বছরের নানা ঘটনা—পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন, আয়নাঘর, শাপলা ট্র্যাজেডি ও ভোট কারচুপিসহ একদলীয় শাসনের চিত্র।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাদুঘর নির্মাণ কর্তৃপক্ষ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে এ তথ্য জানায়।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, চলতি বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং নভেম্বরের শুরুতে উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হাসিনার দীর্ঘ দুঃশাসনের ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য আমরা জাদুঘরের কনটেন্ট কিউরেট করছি।”
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই জাদুঘরে আসা প্রত্যেকেই যেন ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের ঢলকে অনুভব করতে পারে। জনগণের প্রতিরোধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চেতনা জাগিয়ে তোলাই এই জাদুঘরের বড় ভূমিকা হবে।”
জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব জানান, ইতিহাসকে সিকোয়েন্স আকারে সাজানো হবে, যাতে দর্শনার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ১৬ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। এছাড়া গুম-খুনের নির্দেশ সংবলিত অডিও রেকর্ড, ভুক্তভোগী পরিবারের সাক্ষ্য এবং ভিজ্যুয়াল আর্কাইভও এখানে সংরক্ষণ করা হবে।
এছাড়া জাদুঘরে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার থাকবে, যেখানে জুলাই অভ্যুত্থান ও দুঃশাসনকালীন বিভিন্ন ঘটনার উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আইসিটি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান, জাতীয় জাদুঘরের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন মেরিনা তাবাসসুম প্রমুখ।
জাদুঘরের গবেষক ও শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন—ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান, কবি হাসান রোবায়েত, মালিহা নামলাহা, শিল্পী তেজশ হালদার জশ, মোসফিকুর রহমান জোহান, স্থপতি সালাউদ্দিন আহমেদ ও সমন্বয়কারী হাসান এনাম।