ভুয়া সনদে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে ২৪ বছর চাকরি নজরুল ইসলামের

সময়ের চিত্র রিপোর্ট:

ঢাকার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে (নিমকো) ভুয়া সনদের মাধ্যমে টানা ২৪ বছর ধরে চাকরি করছেন মোঃ নজরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পদে দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি পাওয়ার জন্য তিনি নিজেই একটি জাল ডিপ্লোমা সনদ তৈরি করেছিলেন। আশ্চর্যের বিষয়, যে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সনদ দেখানো হয়েছিল—‘মিতালী ফিল্ম স্টুডিও’—দেশে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই ছিল না।

 

নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ:

 

নিমকো সূত্র জানায়, ২০০১ সালের আগস্টে সহকারী পরিচালক (ক্যামেরা ও আলোকসম্পাত) পদে যোগ দেন নজরুল ইসলাম। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ডিপ্লোমা সনদ বাধ্যতামূলক থাকলেও তিনি ভুয়া সনদ দাখিল করেন। সনদে উল্লেখ ছিল, তিনি ঢাকার মহাখালীর আমতলীতে অবস্থিত কথিত মিতালী ফিল্ম স্টুডিও থেকে ফটোগ্রাফিতে ডিপ্লোমা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি অধিদপ্তরের নথি অনুসারে, দেশে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বা নিবন্ধন কখনোই ছিল না। বোর্ড লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছে, তাঁর সনদ জাল। ফলে এটি নিমকোর ১৯৯৬ সালের নিয়োগবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

 

হাতে লেখা সনদ ও প্রভাব খাটিয়ে তদন্তের নাটক:

 

অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলামের জমা দেওয়া সনদটি আসলে হাতে লেখা। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিষয়টি “ওপেন সিক্রেট” হলেও অভিযোগ উঠলেই তিনি প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যান। অতীতে দু’দফা তদন্ত হলেও, তা পরিচালনা করেছেন তাঁরই অধীনস্থ কর্মকর্তারা। ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

 

রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার:

 

প্রায় দুই যুগ ধরে নিমকোতে চাকরির সুবাদে নজরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের সময় নিজেকে কখনো আওয়ামীপন্থী, আবার কখনো বিএনপিপন্থী পরিচয় দিয়ে টিকে আছেন বলে অভিযোগ। এছাড়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। অফিস থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে বসবাস করলেও তিনি একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন এবং পরিবারের সদস্যেরাও তা ভোগ করেন।

 

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ‘‘বাংলাদেশ পোস্ট’’ এ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

 

ভুয়া সনদ নিয়ে প্রধান অভিযোগসমূহ:

 

১. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে অনার্স পাস করার পরও তিনি ফটোগ্রাফিতে ডিপ্লোমা করেছেন বলে দাবি করেন, কিন্তু কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ নেই।

২. ‘মিতালী ফিল্ম স্টুডিও’ নামে কোনো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ছিল না; সনদে কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বরও নেই।

৩. তাঁর ডিপ্লোমা সনদটি হাতে লেখা, যা জালিয়াতির প্রমাণ।

৪. তদন্ত কমিটিগুলো পরিচালিত হয়েছে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা, ফলে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়নি।

৫. নিয়োগের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনও তিনি প্রভাব খাটিয়ে পাশ কাটিয়ে যান।

 

নজরুল ইসলামের অবস্থান:

 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

এই বিভাগের আরো খবর