সংস্কারকে ভয় পাই না, সমস্যা অন্য জায়গায়: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার দল সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়, বরং এই দল সংস্কারকেই ধারণ করে এগিয়েছে। তবে সংস্কারের নামে দেশের মানুষের অজানা কোনো ধারণা চাপিয়ে দিলে সেখানে সমস্যা তৈরি হয়।

 

মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

 

আলোচনায় তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা ওই জায়গায় হয়, যখন দেখি নতুন নতুন চিন্তা আসছে। সেই চিন্তার সাথে আমাদের দেশ-জাতি পরিচিত নয়।’

 

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা খুব খুশি হই যখন পত্রিকায় দেখি একটা পজেটিভ নিউজ। আমাদের রিপন ভাই (আসাদুজ্জামান রিপন) সব নেগেটিভ কথা বলে গেছেন, উনি কিছুই ভালো দেখছেন না। আমি কিন্তু কিছু ভালো দেখছি।

 

ভালোটা দেখছি এজন্যে যে, আজকেই খবরের কাগজে দেখলাম যে বোধহয় ১২টা মৌলিক বিষয় পরিবর্তনে সবগুলো দল এক হয়েছে। দিস ইজ আ পজেটিভ স্টেপ এবং আমি ধন্যবাদ জানাই ড. আলী রীয়াজকে (জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ সভাপতি), যে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে তার টিমকে নিয়ে অন্তত ওই জায়গায়টায় আসার চেষ্টা করেছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে অনেকে খোটা দিয়ে কথা বলে যে, আমরা সংস্কার চাই না। সংস্কারের চিন্তাটাই তো আমাদের, সংস্কারের শুরু আমাদের দিয়ে।’

 

১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার যুগে দলটির সংস্কারমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

 

তবে বিদেশি ভাবনা চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে পিআর, প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন বা আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচন নিম্ন কক্ষে, এটা আমাদের দেশের মানুষ বোঝেই না।

 

 

তারা বলে পিআর কী জিনিস ভাই? যারা এখনো ইভিএমে ভোট দেওয় বোঝে না, যার ফলে ইভিএমে ভোট দেয় না, তারা পিআর বুঝবে কী করে? এই চিন্তাভাবনা থেকে দূরে সরে যেতে হবে।

 

 

দুঃখজনক হলে, এটাকে আমাদের দেশের দুয়েকটা রাজনৈতিক দল প্রোমোট করে। প্রোমোট না, পণ করে বসে আছে যে, এটা না হলে নির্বাচনে যাবো না। এখন কী বলব বলেন?’

 

 

ফখরুল বলেন, ‘এদেশের মানুষ যেটাতে অভ্যস্ত সেই ভোটের ব্যবস্থা করেন, তার প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করেন, জনগণের প্রতিনিধি থাকে সেই পার্লামেন্ট নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন, তাহলেই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে, না হলে হবে না।

 

 

 

বাইরে থেকে এসে বসে কাউকে আপনার নতুন নতুন চিন্তাভাবনা দিয়ে দেশের সমস্যার সমাধান করা যাবে না। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, অবিলম্বে সংস্কারগুলো শেষ করুন, অবিলম্বে জুলাই সনদ ঘোষণা করুন আর দয়া করে নির্বাচনের যে তারিখটা নির্ধারণ করেছেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠকে বসে, যেটাকে জাতি অনুপ্রাণিত হয়েছে, আশান্বিত হয়েছে সেই সময়টাতে নির্বাচন দিন, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন।’

 

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘মায়ের ডাক’-এর আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি পালনে বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই শফিউল বারী বাবু মারা যান।

এই বিভাগের আরো খবর