মেহেরপুর প্রতিনিধি :২৪ এর জুলাই আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে মেহেরপুরে জেলা বিএনপির মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল দশটার দিকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয় শেষ হয়।
মৌন মিছিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব জাভেদ মাসুদ মিল্টন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট কামরুল হাসান, সিনিয়ার যুগ্ন আহবায়ক আমিরুল ইসলাম, যুগ্ন আহবায়ক ফয়েজ মোহাম্মদ
জেলা বিএনপির সদস্য সদস্য ইলিয়াস হোসেন, আলমগীর খান ছাতু, আনসারুল আব্দুল আউয়াল, মীর ফারুক , আবু সালেম নাসিম, ওমর ফারুক লিটন, আখেরুজ্জামান, মকবুল হোসেন মেঘলা, রেজাউল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজান মেনন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাওছার আলী, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বিপ্লবসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিরাপত্তা দেওয়া একটি রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে বর্তমান সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। দেশে এখন মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘরে বাইরে কোথাও সাধারণ জনগণ নিরাপদ নয়। অথচ সরকার ব্যস্ত ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার ষড়যন্ত্রে।
আজ শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে মেহেরপুর শহরের চৌগাছা মোড় থেকে শুরু হয়ে মেহেরপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে শেষ হওয়া এক মৌন মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি আয়োজন করা হয়েছিল ২৪ জুলাই ও আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে।
বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা কালো ব্যানার, শহীদদের ছবি ও কালো পতাকা নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে কারো মুখে কোনো স্লোগান ছিল না, ছিল না কোনো উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ—কেবল গভীর শ্রদ্ধা আর শোকের প্রকাশ।
বক্তব্যে কামরুল ইসলাম আরও বলেন, এই সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করেছে, বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে, এখন আবার মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তাও দিতে পারছে না। সবকিছু মিলিয়ে এ সরকার এখন জনগণের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে সরকার মানুষের জীবন সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ, সেই সরকারকে আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। জনগণ সেই ব্যালটেই জবাব দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যালটের মাধ্যমেই বিএনপির বিজয় আসবে। বাংলাদেশে আবারও একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ যারা শহীদ হয়েছেন, তারা দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় প্রাণ দিয়েছেন। তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। আমাদেরকে সাংগঠনিকভাবে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন বেগবান করতে হবে। যেকোনো ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।