লাহোরে বিস্ফোরণের শব্দ, আকাশপথ বন্ধ

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

পাঞ্জাবের প্রদেশিক রাজধানী লাহোরের গোপাল নগর ও নাসিরাবাদ এলাকায় ওয়ালটন বিমানবন্দরের আশপাশে আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে,ওয়ালটন বিমানবন্দরের কাছে ভারতীয় একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোনটি আনুমানিক ৫ থেকে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের ছিল এবং এটি সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,অন্তত দুই থেকে তিনটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়ার কুন্ডলী উঠতে দেখা যায়। আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

সূত্র জানায়,ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জ্যাম করে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়।

এছাড়াও, ড্রোনটি গোপন তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে, এবং এতে বিস্ফোরকও ছিল। সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে লাহোর ও সিয়ালকোট শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নোটিস টু এয়ারম্যান (নোট্যাম)-এ জানানো হয়েছে, লাহোর ও সিয়ালকোটের আকাশপথ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ)-এর একাধিক ফ্লাইটে প্রভাব পড়েছে। মদিনা থেকে ছেড়ে আসা একটি ফ্লাইট, যা মূলত লাহোরে অবতরণের কথা ছিল, সেটিকে করাচিতে পাঠানো হয়েছে। একইভাবে, মুলতান থেকে লাহোরগামী আরেকটি ফ্লাইটও বিলম্বের কারণে করাচিতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

আকাশপথের নিষেধাজ্ঞা এবং ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, গুজরানওয়ালা ক্যান্টনমেন্টে মোতায়েন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং ড্রোনটিকে লক্ষ করে গুলি চালিয়ে তা ভূপাতিত করে।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন,যাঁদের বেশির ভাগই পর্যটক। এ ঘটনার পেছনে পাকিস্তানের হাত ছিল দাবি করে জবাব দেয়ার ঘোষণা দেয় ভারত। এরপরই এ হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, মঙ্গলবার রাতে মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে নারী-শিশুসহ ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৫৭ জন আহত হন। এদিকে হামলার পর থেকে সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাবর্ষণে ১৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৪৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী।

এই বিভাগের আরো খবর