চরফ্যাশন প্রতিনিধি॥
একদিকে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ, অন্যদিকে তিন বেলা খাবার যোগাড়ের কষ্ট। এর ওপর অসুখে মেলেনা পথ্য, শিশুদের যাওয়া হয় না স্কুলে। সব ধরনের নাগরিক সেবা থেকেই বঞ্চিত থাকছে চরফ্যাশন উপজেলার মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচরের চর নিজামের মানুষে। মাঠ পর্যায়ে সরকারের সব দপ্তরের কার্যক্রম থাকলেও দ্বীপবাসীর কাছে অনেক দপ্তরের নাম অজানা। বিচ্ছিন্নতায় অবরুদ্ধ মানুষ কেন্দ্র থেকে থাকছে অনেক দূরে দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচরের চর নিজামের মানুষ এভাবেই বেঁচে আছে। নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে নানান কার্যক্রম থাকলেও এই দ্বীপে তার সামান্য পরিমাণও পৌঁছাচ্ছে না। নজরদারির অভাবে এখানে উন্নয়ন সুবিধা পৌঁছাচ্ছে খুবই কম। ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড হিসাবে এখানে যতটুকু উন্নয়ন হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না।
চরাঞ্চলবাসীর অভিযোগ, দেশের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার গুলোর মধ্যে বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, যোগাযোগের অভাব। এছাড়া নিরাপদ পানি, স্যানিটেশনের অভাবে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সচেতনতার অভাবে শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বাল্য বিবাহ ও যৌতুকের বলি এবং শিশু শ্রমের শিকার হচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবা ও পুষ্টি হীনতায় ভোগে মেধা শূন্য প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় এখানকার মানুষ গুরুতর অসুস্থ হলে বা গর্ভবতী মায়েদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ট্রলারে করে উপজেলা সদরে নেওয়ার পথেই অনেকে মারা যান। আরো জানা গেছে, চরাঞ্চলে নেই অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ। বিশাল এ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলের জন্য সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়রা। অসচেতনতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র ঝড়ে পড়ার হার বেড়েই চলেছে। পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মীরা সঠিক দায়িত্ব পালন না করায় জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দেশের নদীতীরবর্তী ও নদীগর্ভবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। এসব এলাকার প্রশাসনিক ও উন্নযনমূলক দেখভালের মূল দাযত্বি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) ওপর বর্তায়, যিনি চরবাসীর দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং তাদের জীবনমান উন্নযনে স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন। উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন ঢালচর ইউনিয়নের চরনিজাম, এর মানুষের জীবন যাত্রা অনেক কষ্টের। চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের জন্য পাকা রাস্তা তো দূরের কথা মাটির রাস্তা গুলোও ভাঙা। সেই রাস্তায় গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।তাই চরফ্যাশন উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) রোমানা আফরোজ ,গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন এর আওতায় চর নিজামে কিছু মাটির রাস্তা দেওয়া , তাতেই তারা ভীষণ খুশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, চরের সাথে মূল ভূখ-ের যোগাযোগের একমাত্র উপায় হলো ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা নৌকা।বর্ষা মৌসুমে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা মাঝে মাঝে মূল ভূখ- থেকে এদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।দ্বীপের ভেতরে কোনো উন্নত বা পাকা রাস্তাঘাট না থাকায় মানুষকে পায়ে হেঁটে বা কাদা-মাটি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নিদ্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রশাসন কাজ করছে। বাল্যবিয়ে রোধেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।