সময়ের চিত্র ডেস্ক:
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (নবম পে-স্কেল) চালুর বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে এটি কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে পুরো সুপারিশ একযোগে বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সরকার ধাপে ধাপে তা কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হতে পারে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে কম হারে পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের জন্য পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই থেকে বেতনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। পরবর্তী দুই বছরে বাকি অংশ সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিবর্তে একবারেই পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দ্রুত বেতন সমন্বয় প্রয়োজন।