নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর বংশাল থানাধীন গাংগুলী লেন এলাকায় সরকারি জমি লীজ নেয়ার জন্য
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন আহম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি।
গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে করা আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বংশাল থানার ১৫/১ বি, কে গাংগুলী লেনস্থিত হোল্ডিংটি পূর্বে মোসা. মনোয়ারা বেগম, মো. হোসেন ও নাজমা বেগমের নামে লীজ বরাদ্দ ছিল। তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে জায়গাটি ভোগদখলে ছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে লীজের ভাড়া ও লীজ মানি পরিশোধ না করায় সরকারের পক্ষ থেকে নাজমা বেগমকে নোটিশ দেওয়া হয়। তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় বর্তমানে জায়গাটি নতুনভাবে বরাদ্দের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন আবেদনকারী।
আহম্মদ আলী তার আবেদনে নিজেকে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ উল্লেখ করে বলেন, তার নিজের কোনো জায়গা-জমি বা বসবাসের জন্য আলাদা ঘর নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে বসবাস করলেও পরবর্তীতে তাকে জোরপূর্বক সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মনির হাজির কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে রিকশার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে মনির হাজী কখনও জমিটি তার বাবার নামে, আবার কখনও তার মায়ের নামে লীজ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
আহম্মদ আলীর অভিযোগ, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নোটিশ দেওয়া হয় যে, জমিটির লীজ সংক্রান্ত বৈধতা নেই। এরপর তিনি নিজ নামে লীজ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
এদিকে, ওই জমির চার ফুট অংশ দখলের উদ্দেশ্যে সাবারো কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মালিক আব্দুল বারেক তার বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবারো কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মালিক আব্দুল বারেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আহম্মদ আলী জেলা প্রশাসকের কাছে মানবিক দিক বিবেচনা করে তার নামে জায়গাটি লীজ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের সব নিয়ম-কানুন মেনে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।