কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত টেকনাফের লবণ মাঠ, সংকটে ৫০ হাজার চাষি

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

টানা কালবৈশাখী ঝড় ও অকাল বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের বিস্তীর্ণ লবণ মাঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে লবণ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।

স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে উৎপাদিত কয়েক দিনের লবণ মঙ্গলবারের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে পানিতে গলে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক মাঠে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই লবণ উৎপাদন থেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়েছে। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৭২ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে চার লাখ টন কম। এ মৌসুমে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ লাখ ১০ হাজার টন।

টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সাবরাং এলাকার বহু লবণ মাঠের ‘বেড’ ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রস্তুত মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে।

শাহপরীর দ্বীপের চাষি নুরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে কয়েকশ মণ লবণ নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে মাঠ প্রস্তুত করে উৎপাদনে ফিরতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।

নোয়াপাড়ার চাষি গিয়াস উদ্দিন জানান, এক মণ লবণ উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ৩০০ টাকা, কিন্তু বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়। এতে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সাবরাংয়ের আরেক চাষি আলী আহমদ বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ শুরু করলেও ঝড়-বৃষ্টিতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। এখন ঋণ পরিশোধ নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন।

টেকনাফ সাবরাং লবণচাষী কল্যাণ ও ব্যবসায় সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যের অভাবে চাষিরা মারাত্মক সংকটে রয়েছেন।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ক্ষতির কারণে চলতি মৌসুমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মাঠ ও মিল পর্যায়ে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার টন লবণ মজুদ রয়েছে।

চাষিদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো পরিবার বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে।

এই বিভাগের আরো খবর