চরফ্যাশন প্রতিনিধি:
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘পুষ্টি, উদ্যোক্তা ও স্থিতিস্থাপকতার জন্য কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর’ (পার্টনার) কর্মসূচির অধীনে বুধবার চরফ্যাশনে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হযেেছ।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালযরে উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয।
কংগ্রেসটি স্থানীয কৃষি পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ এবং কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। মূল আলোচনার বিষযগুলোর মধ্যে ছিল:
জ্ঞান বিনিময: কৃষকদের হালনাগাদ কৃষি প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রদানের প্রয়োজনীযতা। উত্তম কৃষি পদ্ধতি (গ্যাপ): রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক মান পূরণে আদর্শ পদ্ধতির মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের ওপর জোর দেওযা। সম্পৃক্ততা: উৎপাদনশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাডাতে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হতে পারে এমন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা, যিনি মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন।প্রধান অতিথি, কৃষিবিদ ড মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), বরিশাল অঞ্চল।তিনি পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস প্রশিক্ষণে ফসলের বহুমুখীকরণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি, কৃষি পণ্যের টেকসই ভ্যালুচেইন সৃষ্টি, অধিক ফলন উৎপাদন, প্রযুক্তি ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ ফলজ ও সবজি খামার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশেষ কৃষিবিদ মো খাযরুল ইসলাম মল্লিক, উপ-পরিচালক, ডিএই, ভোলা। কৃষিবিদ মো আলী আজিম শরীফ, মনিটরিং অফিসার, তৈলবীজ উৎপাদন প্রকল্প, বরিশাল। মুহাম্মদ রিযাজ উদ্দিন, সিনিযর মনিটরিং অফিসার, পার্টনার প্রকল্প, বরিশাল। বক্তারা কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্পের গুরুত্বারোপ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন ধান চাষের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল চাষে উৎসাহিত করা। রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসম্মত ফসল উৎপাদন।তরুণ ও প্রান্তিক কৃষকদের কেবল চাষি নয়, বরং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে উৎপাদন খরচ কমানো ও ফলন বৃদ্ধি। ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের নিজেদের মধ্যে জ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানো।”টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এবং কৃষকদের জ্ঞানকে আরও প্রসারিত করতে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এই কংগ্রেসের মাধ্যমে কৃষকরা একে অপরের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির রূপান্তর সম্পর্কে জানতে আগ্রহী স্থানীয কৃষক (পুরুষ ও মহিলা উভযই) এবং বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ কংগ্রেসে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয। পার্টনার কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে একটি অধিক স্থিতিস্থাপক ও উদ্যোক্তা কৃষি খাত গডে তোলা এবং পুষ্টি ও আধুনিক চাষাবাদের কৌশল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওযা।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানাউল্লাহ আজম।