সময়ের চিত্র রিপোর্ট:
জুলা গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ হিসেবে আলোচিত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করবেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
আন্দোলনের পটভূমি
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে। তবে ২০২৪ সালে হাইকোর্টের এক রায়ের পর কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকারের বিভিন্ন বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
বিতর্কিত বক্তব্যের পর উত্তেজনা
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরদিন বিকেলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলাকালে হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলায় বহু শিক্ষার্থী আহত হন। এমনকি আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে।
আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনা
এমনই এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
সেদিন সারা দেশে ছয়জন নিহত হওয়ার খবর সামনে আসে। এরপর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আন্দোলনে যুক্ত হতে শুরু করেন।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে অভিযোগ
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে উঠে এসেছে, আবু সাঈদের মৃত্যুর পর তার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ছিল। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
আজকের রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ রায় জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।