‘হত্যাচেষ্টা’ মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন কারাগারে

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের করা আশরাফুল হত্যা চেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে, তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে করা দুই দিনের রিমান্ড আবেদন এবং আসামিপক্ষের জামিন আবেদন—দুটিই খারিজ করা হয়।

আদালতে যা ঘটেছে:

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন, শিরীন শারমিনকে আদালতে হাজির করে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

অন্যদিকে, শিরীন শারমিনের পক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

রিমান্ড আবেদনে কী বলা হয়েছে:

তদন্ত সংস্থার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও তৃতীয় নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যরা তৎকালীন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জড়িত ছিলেন।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়, তাদের পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্দেশনার সঙ্গে মামলার ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। এজন্য ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য উদঘাটনে শিরীন শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির:

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পরে দুপুর ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার পটভূমি:

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে রাজধানীর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ করা হয়, সে সময় আন্দোলনকারীদের ওপর অস্ত্রসহ আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে আশরাফুল ওরফে ফাহিম গুলিবিদ্ধ হন। তার চোখে গুলি লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে গত বছরের ২৫ মে, তিনি শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত ১১৫ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার দায়িত্বে থাকতে পারেন। তবে সে সময় পর্যন্ত না থেকে, ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শিরীন শারমিনের রাজনৈতিক পরিচয়:

শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথমবার ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন। পরে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে, ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল, তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর টানা তিন মেয়াদে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর