সময়ের চিত্র ডেস্ক:
ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসতেই রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও মসলার দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যদিও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাজার ঘুরে দেখা যায়, মসলার দামে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন মসলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এলাচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে প্রায় ৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি দারুচিনি, জয়ত্রি, জায়ফল, লবঙ্গ, জিরা ও ধনিয়ার দামও বেড়েছে।
শুকনো ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। কিশমিশ, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তা—সবগুলোর দামই আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ঈদকে ঘিরে চাহিদা বাড়ায় মাংস ও মুরগির দামও বেড়েছে। গরুর মাংস কেজিতে প্রায় ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,৩৫০ থেকে ১,৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যদিও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।
মাছের বাজারেও একই প্রবণতা। রুই, পাঙাস, তেলাপিয়া, পোয়া মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম বেড়েছে। গলদা চিংড়ি, টেংরা ও পাবদার দামও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
তবে সবজির বাজার তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। বিক্রেতারা দ্রুত পণ্য বিক্রি করে গ্রামের পথে রওনা হওয়ার কারণে অনেক সবজি কম দামে বিক্রি করছেন। ফলে পেঁয়াজ, আলু, টমেটো, শসা ও বেগুনের দাম কিছুটা কম রয়েছে।
অন্যদিকে, কাঁচামরিচ ও লেবুর দাম এখনও বেশি। তেলের সরবরাহ সংকটে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২১৫–২২০ টাকায় উঠেছে। চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে।
ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ সেমাইয়ের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সুগন্ধি চালের দাম বেড়ে কিছুটা চাপ তৈরি করেছে ক্রেতাদের ওপর।
সামগ্রিকভাবে, ঈদ সামনে রেখে বাজারে বাড়তি চাহিদার কারণে বেশিরভাগ পণ্যের দাম বাড়লেও, সবজির বাজারে সাময়িক স্বস্তি মিলছে।