নাটকীয়তা শেষে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান

খেলা ধুলা ডেস্ক: নাটকীয়তা শেষে আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের অধিনায়ক হিসেবে সাকিব আল হাসানের নাম ঘোষণা করলো বিসিবি। শুক্রবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তার বাসভবনে সংবাদমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন ।

 

ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তামিম ইকবাল ৮ দিন আগে । এরপর ৪-৫ দিন সময় নিয়েও অধিনায়ক ঘোষণা করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পরবর্তীতে জরুরি বোর্ড মিটিং করে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সম্ভাব্য ৩ জনের সঙ্গে আলোচনা করে অধিনায়ক নির্বাচন করার। ১২ আগস্ট পর্যন্ত সেজন্য সময় নেওয়া হয়। তবে এর একদিন আগেই পাপন তার বাসভবনে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ফলে দ্বিতীয় দফায় তিনি আবার বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক হয়েছেন। এখন বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক হলেন সাকিব। তবে বিশ্বকাপের পর সাকিবের দায়িত্ব কেমন হবে সে বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করে জানানোর কথা বলেছেন পাপন। কারণ এখানে সাকিবের কিছু চাওয়া রয়েছে এবং বিসিবির কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত অধিনায়ক নিয়ে চলা জটিলতার সমাপ্তি ঘটেছে এবং আজ শনিবার এশিয়া কাপের জন্য দল ঘোষণা করবেন নির্বাচকরা।

দীর্ঘ সময় ইনজুরির কারণে অনেকগুলো সিরিজ ও ম্যাচ থেকে বিরতি নিয়েছেন তামিম। তার পরিবর্তে লিটন কুমার দাস দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং আসন্ন এশিয়া কাপ থেকেও নিজেকে প্রত্যাহার করেছেন। ৩ আগস্ট তিনি ওয়ানডের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলে পরবর্তী অধিনায়ক নির্বাচনের জন্য আলোচনা করতে ৪-৫ দিন সময় নেয় বিসিবি। কিন্তু সেটি পারেনি তারা। কারণ অধিনায়ক হিসেবে সম্ভাব্য ৩ জনের সঙ্গে আলোচনাই করেননি তারা। ১২ আগস্ট এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের দল ঘোষণা হওয়ার শেষ সময়। সেদিনের মধ্যেই অধিনায়ক ঠিক করার কথা জানায় বিসিবি। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন সাকিব।

 

বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার এর আগে দুই দফায় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওয়ানডেতে। মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরির কারণে প্রথমবার ২০০৯ সালে অধিনায়ক হন ৩ ফরম্যাটেই। কিন্তু ২ বছর পেরোতেই টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সমস্যা ও ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে বাজে আচরণ ইত্যাদি কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় নেতৃত্ব থেকে। এরপর ২০১৫ সালে ২ ম্যাচ ও ২০১৭ সালে একটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন মাশরাফির অনুপস্থিতিতে। দ্বিতীয় দফায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে টেস্ট ও টি২০ দলের অধিনায়ক হন সাকিব। তবে ২০১৯ সালের অক্টোবরে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসনে যেতে হয় তাকে। ২০২২ সালের জুনে সেই মুকুট ফিরে পান এবং আবার এ দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক হন। নেতৃত্ব নিয়ে ঘটনাবহুল ক্যারিয়ার সাকিবের। নাটকীয় ক্যারিয়ারে আবার দ্বিতীয় দফায় ওয়ানডেরও অধিনায়ক হয়েছেন। ফলে ৩ ফরম্যাটে একইসঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো অধিনায়ক হলেন এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

অধিনায়ক করার আলোচনায় প্রস্তাবিত ৩টি নামের মধ্যে সাকিব ও লিটন কুমার দাস এবং মেহেদী হাসান মিরাজের নাম ছিল। কিন্তু সাকিবকেই বেছে নিয়েছে বিসিবি। তিনি এর আগে সবমিলিয়ে ৫০ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৩ জয় এনে দিয়েছেন এবং ২৬ পরাজয় দেখেছেন। তার বিষয়ে পাপন বলেছেন, ‘এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে সাকিবকে অধিনায়ক করা হয়েছে। বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের দল শনিবার ঘোষণা করা হবে। আপাতত এশিয়া কাপের ১৭ জনের দল দেবেন নির্বাচকরা।’ তবে এই মুহূর্তে সাকিবকে আসন্ন এশিয়া কাপ, আগামী মাসে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ও বিশ্বকাপের জন্য অধিনায়ক করা হয়েছে। তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক থাকবেন কিনা তিনি সে বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাপন।

 

পাপন বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ওর (সাকিব) জন্য তিন সংস্করণে একসঙ্গে অধিনায়কত্ব করা কঠিন। এটা ওর সঙ্গে কথা বলে ঠিক করতে হবে। ও কোন সংস্করণে করতে চায়, কোনটা রাখতে চায়, যদি এক-দুই সংস্করণ চায়, তাহলে একরকম, আবার ও যদি বলে তিন সংস্করণেই করতে চাই, তাহলে তো সমস্যাই নেই। তো ওর ব্যাপারটা জেনে তারপরে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’ অর্থাৎ এখনো বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে জটিলতার সমাপ্তি ঘটেনি। বিশ্বকাপ শেষে এই আলোচনা আবারও হবে। কারণ সে পর্যন্তই আপাতত নেতৃত্ব দিতে রাজি হয়েছেন সাকিব। তাকেই আসন্ন দুটি বড় আসরের জন্য সেরা পছন্দ বলে মনে করেছেন পাপন। তিনি বলেন, ‘সামনে এখন এশিয়া কাপ, এরপরই বিশ্বকাপ।

 

 

এত কম সময়ের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে, সবচেয়ে সহজ ও অবধারিত পছন্দ সাকিব আল হাসান। আরেকটা অটো চয়েজ আছে। সেটা হলো, ও না খেললে সহ-অধিনায়ক যে আছে সে হবে, লিটন দাস। আরও দুই-একটি নাম এসেছে, যেমন মেহেদী হাসান মিরাজ। দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা করলে কে হবে, সেই আলোচনা থেকে। কারণ এখন তো ধরেন মুশফিক করছে না, তামিমও ছেড়ে দিল, সাকিবও যদি কখনও ছেড়ে দেয় তখন কী হবে…। ওরকম দীর্ঘমেয়াদে যখন চিন্তা করব, তখন আরও নাম আসবে। এরকম নাম আসতেই পারে, সমস্যা নেই।

এই বিভাগের আরো খবর