ভোলা প্রতিনিধি:
সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে অতি জোয়ারে ফেরির পন্টুনের গ্যাংওয়ে ছিড়ে বন্ধ হওয়ার তিন দিনেও সচল হয়নি ভোলা লক্ষীপুর রুটের ফেরী সার্ভিস। ফলে ইলিশা ফেরিঘাটে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ্য যানযট।ভোগান্তিতে পরেছেন কাঁচামাল বোঝাই পরিবহন শ্রমিকরা। এদিকে ঘাটটি দ্রুত সচল করতে কাজ করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। নিস্ম চাপারে প্রভাবে মঙ্গলবার ভোলার মেঘনা নদীতে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় পানি। একইসঙ্গে দমকা হাওয়ায় ঢেউয়ের আঘাতে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ইলিশা ফেরী ঘাটের দুটি পল্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে হাই ওয়াটার লেভেল পল্টুন ছিড়ে রেম নদীর মধ্যে পরে যায়। আর লো ওয়াটার লেভেল পল্টুনের তলা ফেটে পানি ঢুকলে ডুবে যায় রেম। এ সময় বন্ধ হয়ে যায় ভোলা- লক্ষীপুর রুটের ফেরী চলাচল। একই সময় নদীর প্রচন্ড ঢেউ লঞ্চ ঘাটের পল্টুনটিও তীরে ব্লকের উপরে উঠে যায়। এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় কোনো যানবাহন পারাপার হতে না পারায় দুই পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এ অঞ্চলের যাত্রীরা। কখন ফেরি চালু হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। গন্তব্যে যেতে না পারায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পরিবহণ শ্রমিক ও যাত্রীরা। কয়েকজন ট্রাকচালক ও শ্রকমিকরা জানান,ভোলা-লক্ষীপুর রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রুটে দিয়ে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। একদিন ফেরি বন্ধ থাকলে ব্যবসায়িদের অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ঘাটে কাঁচামাল ট্রাক নিয়ে অপেক্ষায় থাকা আব্দুল সবুর বলেন, ভোলার সবজি নিয়ে চট্রগ্রামের বাজার দড়ার কথা ছিলো। এখন ফেরী বন্ধ থাকায় যেতে পারছিনা।সময় মতো কাচামাল নিয়ে পৌছাতে না পারলে মালও শেষ,পার্টিও শেষ আমি শেষ। পরিবহন ড্্রাইভার শফিকুল ইসলাম জানায়,আজকে ৩ দিন ধরে আমরা ভোলা ইলিশা ঘাটে আটকে আছি।ফেরীঘাট পল্টুন ছিড়ে যাওয়া ও পানি ডুকার কারনে কোন গাড়ী লোড-আনলোড করা যাচ্ছেনা।এখন পর্যন্ত ঠিক করার জন্য কোন অগ্রগতি নেই।আমাদের থাকতে কষ্ট,খাইতে কষ্ট। ঘাট নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথাই নেই। ইলিশা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, পারাপারের অপেক্ষায় শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। ঘাট থেকে পন্টুন ছিড়ে আলাদা হয়ে মাঝ নদীতে পড়ে আছে। ঘাটের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে ভোলার ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক মো: পারভেজ খান জানান,ফেরিঘাট চালু না হওয়ায় দুই পাড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক অপেক্ষায় আছে। এতে কিছুটা দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।ঘাটটি সংস্কার করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ কাজ করে যাচ্ছেন। আশাকরছি দ্রুত সংস্কার হয়ে যাবে পল্টুন। এর পরেই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে। বিআইডব্লিউটিএ এর বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ন পরিচালক,মো:সেলিম জানান,মঙ্গলবার রাত থেকেই ফেরী ঘাটের পল্টুন দুটি মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে জোয়ারের সময় কাজ বন্ধ থাকছে। আশাকরি আগামীকালের মধ্যে একটি পল্টুন ঠিক করা সম্ভব হবে। খুলনা চট্টগ্রাম সহ দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ২১ টি জেলার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ভোলা-লক্ষীপুর ফেরিঘাট। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন ৪ টি ফেরিতে দুই শতাধিক যানবাহন চলাচল করে।এ রুটটি বন্ধ থাকায় ওই সব জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।তাই দ্রুত ঘাট মেরামত করে এ রুটটি স্বাভাবিক করার দাবি এ অঞ্চলের যাত্রী ও পরিবহন চালকদের।