আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী বৈরুত, বেকা ভ্যালি এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে অন্তত ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান অভিযানে অংশ নেয় এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিপুলসংখ্যক বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
এ হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তারা চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে আসার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। ইসরায়েল ওই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন জানালেও তারা স্পষ্ট করে দেয়, এই সমঝোতা ইরানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও লেবাননের জন্য নয়।
তবে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় জড়িত পক্ষগুলোর কিছু বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, লেবাননও এ ব্যবস্থার আওতায় থাকার কথা ছিল। এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান তৈরি হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরে এ দাবি নাকচ করে দেন।
এ অবস্থার মধ্যেও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ সাময়িকভাবে হামলা থেকে বিরত ছিল বলে জানা গেছে। গোষ্ঠীটি যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর আক্রমণ স্থগিত রেখেছিল।
তবে ইসরায়েলের নতুন হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট এক আইনপ্রণেতা বলেন, যুদ্ধবিরতি একতরফাভাবে মানা সম্ভব নয়; ইসরায়েলকেও তা মেনে চলতে হবে, অন্যথায় এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
বুধবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননের সিদোনসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। এরপর ইসরায়েল জানায়, তারা দেশজুড়ে সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি।
ইসরায়েলি বাহিনী এই অভিযানের একটি কোডনামও প্রকাশ করেছে। তবে লেবাননের বিভিন্ন সূত্র বলছে, হামলার অনেক স্থানই হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নয়; বরং বেশ কিছু আঘাত পড়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাতেও।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। হতাহতের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত না হলেও, হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে হতাহতদের সরিয়ে নিতে বিপুলসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স কাজ করছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন বলেন, বৈরুতসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে আহত ও নিহতদের ঢল নেমেছে, যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা ফের বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে হামলার জবাবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপের খবরও পাওয়া গেছে, যা অঞ্চলটিকে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।