সময়ের চিত্র ডেস্ক:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি প্রায় ছয় ঘণ্টার টানা অভিযানের পর উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ক্রেনের সহায়তায় বাসটি নদী থেকে ওপরে তোলে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার পথে ছিল। বিকেল প্রায় পৌনে ৫টার দিকে, ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়।
রাত ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস জানায়, উদ্ধার করা বাসের ভেতর থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে নদী থেকে জীবিত অবস্থায় তোলা দুই নারীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৯ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। বাকিরা পুরুষ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতে দুর্ঘটনাস্থলে যান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার কার্যক্রম শেষে তিনি জানান, এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট। অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের আরেকটি কমিটি। উভয় কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে—দুর্ঘটনার পেছনে চালকের অবহেলা, যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি অন্য কোনো কারণ দায়ী ছিল।
আগের পোএ্ট
এই বিভাগের আরো খবর