জাতীয় সংসদ অধিবেশন

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন: রাষ্ট্রপতি

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাঢ্যভ্যনিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সংসদ গঠিত হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman, জাতীয় সংসদের স্পিকার Hafiz Uddin Ahmed, ডেপুটি স্পিকার এবং সব সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ভাষণের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে স্মরণ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, সেই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্রকে নতুন দিশা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মামলার জট কমানো, ন্যায়বিচার সহজলভ্য করা এবং বিচারিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলায় ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে আইনগত ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব হুমকি মোকাবিলা করার কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হবে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কূটনীতি জোরদার করা, নতুন রপ্তানি বাজার খোঁজা এবং অভিবাসন কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ভাষণের শেষাংশে তিনি কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, ব্যাংকিং, প্রশাসন এবং প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন খাতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

এই বিভাগের আরো খবর