ধানমন্ডিতে প্রাণীপ্রেমী শিক্ষিকাকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় পথকুকুর ও বিড়ালকে খাবার ও চিকিৎসা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষিকাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

সোমবার (২ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা সৈয়দা নাসরীন আক্তার জানান, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং পেশায় ধানমন্ডি শাখার বুলবুল ললিতকলা একাডেমি-এর শিক্ষিকা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পশ্চিম ধানমন্ডির আলি হোসেন ও ইউসুফ স্কুল সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের পথকুকুর-বিড়ালকে নিজ উদ্যোগে খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও তাকে এ কাজে উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিটে বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ৭৬ নম্বর বাড়ির সামনে জাকির হোসেন সান্টু (৫৫) নামের এক ব্যক্তি তাকে পেছন থেকে ডেকে দাঁড় করান। পরে তাকে ‘তুই’ সম্বোধন করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধানমন্ডি এলাকার সব কুকুর-বিড়াল বস্তাবন্দি করে নিয়ে যেতে বলেন। অন্যথায় তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন নাসরীন আক্তার।

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট তাকে সেখানে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও জোরপূর্বক কুকুর-বিড়াল সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, এর আগেও গত ৫ জুলাই ২০২৫ বিকেলে অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সামিউল ইসলাম তারাসহ কয়েকজন তাকে একইভাবে হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তখন স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে তিনি হাজারীবাগ থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন (জিডি নং-১২৩৬, তারিখ: ২২/০২/২০২৬)।

নাসরীন আক্তার বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। অসহায় প্রাণীদের খাবার দিই, চিকিৎসা করি। এর জন্য আমাকে হুমকি ও অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রাণী কল্যাণ ও জনস্বার্থ—উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

এই বিভাগের আরো খবর