পুলিশের আইনানুগ কাজে অবৈধ বাধা সহ্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বেশকিছু মামলায় নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে জড়ানোর অভিযোগ এসেছে। এসব মামলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের কাজে অবৈধভাবে কেউ বাধা দিতে পারবে না এবং পুলিশের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে পুলিশের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে লটারি পদ্ধতিতে এসপি ও ওসিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। “দক্ষতা, উপযুক্ততা ও সার্ভিস রেকর্ড বিবেচনায় পদায়ন হওয়া উচিত ছিল। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব,” বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে বিধির বাইরে প্রটোকল প্রদান না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশের ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবলের শূন্য পদে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বেশকিছু মামলায় নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে জড়ানোর অভিযোগ এসেছে। এসব মামলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাইফেলস হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় কমিশন গঠন করা হবে এবং কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,” যোগ করেন তিনি।

বিগত সরকারের আমলে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পুনরায় যাচাই করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। লাইসেন্স যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কিনা এবং লাইসেন্সধারীরা উপযুক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্রও বাতিলের আওতায় আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাসপোর্ট সেবা নিয়ে জনগণের অভিযোগের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারীদের তালিকাভুক্ত করে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ চালুর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করে সফল হলে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

২০০৬ সালে নিয়োগ বঞ্চিত এসআইদের বিষয়ে তিনি বলেন, “তদন্ত ও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর