গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরের বাসন মেট্রোথানা বিএনপি সভাপতি মো. তানভীর সিরাজকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ‘সত্যের সন্ধানে বিএনপি’ নামে একটি নামসর্বস্ব ও সন্দেহভাজন ফেসবুক আইডি থেকে তাকে জড়িয়ে ‘নারী কেলেঙ্কারি’, ‘চাঁদাবাজি’ এবং ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিত্তিহীন পোস্ট দেওয়া হয়। এসব পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মো. তানভীর সিরাজ।
এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সবসময় আমার দলের নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করি। যারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের সত্য প্রকাশের সাহস না থাকলে অন্যের বিরুদ্ধে এভাবে হীন ষড়যন্ত্র করা অনুচিত।’
তিনি আরও বলেন, “আমি বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি, পালিয়ে যাইনি। সুতরাং এসব গুজব ছড়িয়ে আমার রাজনৈতিক ও পারিবারিক সুনাম নষ্ট করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হীন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।”
গাজীপুরের বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরেই ‘গাজীপুর সিটি নিউজ’, ‘গাজীপুর ক্রাইম’, ‘দালালমুক্ত গাজীপুর’, ‘গাজীপুরের তাজা খবর’সহ একাধিক নামসর্বস্ব ও ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিদের নামে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
এই চক্রের সদস্যরা প্রায়ই বিভ্রান্তিকর পোস্টে এডিট করা ছবি ব্যবহার করে। এমনকি চাহিদামতো অর্থের বিনিময়ে পূর্বের পোস্ট মুছে দেওয়ারও প্রস্তাব দেয় বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, ‘আমার নামে ভুয়া একটি ফেসবুক আইডি খুলে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। আমি যোগাযোগের চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি বিকাশ নম্বর চেয়ে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে পোস্ট মুছে না ফেলার হুমকি দেয় এবং পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।’
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এসব ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এতে শুধু ব্যক্তি নয়, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তানভীর সিরাজ এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন,‘এই চক্রের বিরুদ্ধে আমি প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা গ্রহণ করব। পাশাপাশি সকলকে অনুরোধ করছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও তথ্য যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস না করতে।