মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার একটি হোটেলে কাজ করে ইব্রাহিম (১১)। হোটেলে কাজে আসে সকাল ৯টায় আসে, কাজ শেষে বাড়ি ফিরে রাত ১০টায়। সেখানে খাবার পরিবেশন, টেবিল মোছা, বাসন, গ্লাস, বাটি ধোঁয়ার কাজ করে ইব্রাহিম। তিন বেলা খাবার হোটেলেই খায়। মাসে বেতন ৩ হাজার টাকা। ঢাকার লালমাটিয়া এলাকার এক বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন রমিছা (১২)। তার কর্মঘন্টা শুরু হয় সকাল ৬টায় আর শেষ হয় রাত ১২ টা। যখন বাসার সবাই ঘুমাতে যায়। প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ ঘন্টা তাকে কাজ করতে হয়। রমিছার মতো বাসা-বাড়িতে বহু মেয়ে শিশু গৃহকর্মীর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সেসব শিশুদের সকলকেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অমানবিক পরিশ্রম করতে হয়। দিনভর পরিশ্রম করেও অনেক শিশুর ভালো খাবার এবং ঘুমের জন্য আরামদায়ক বিছানা ঘুমানোর জন্য জুটে না। কর্মঘন্টাও তাদের নির্দিষ্ট নেই। এদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, ৪৫ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ রয়েছে। এর মধ্যে ৪১ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের অংশগ্রহণ থাকে।
দেশে শিশুশ্রম বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশুশ্রম প্রতিবেদন মতে, বর্তমানে কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার । যা ২০১৩ সালে ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। প্রতিবেদন মতে, ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ শিশু শ্রমের সঙ্গে জড়িত। যা ২০১৩ সালে ছিল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে প্রতিবেদনে বলা হয় দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার কমেছে। ২০২২ সালের শিশুশ্রম জরিপ অনুযায়ী ১০ লাখ ৬৮ হাজার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম জড়িত। যা ২০১৩ সালে ছিল ১২ লাখ ৮০ হাজার । ‘শিশুশ্রম জরিপ ২০২২’ জরিপে এ তথ্য জানানো হয়। এতে, জানানো হয় ৫-১৭ বছর বয়সি শিশু ৩ কোটি ৯৯ লাখ, কর্মজীবী শিশু ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন, শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত ১৭ লাখ ৭৬ হাজার। শিশুশ্রম জরিপ ২০২৩ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বলছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু। শিশুশ্রমিকের প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। পেটের দায়ে, সংসার চালাতে দরিদ্র বাবা-মাকে সাহায্য করতে ওরা শ্রমিকে পরিণত হয়েছে, শ্রম দিচ্ছে। ওরা প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের সমপরিমাণ কাজ করতে পারে না। বড়রা যে পরিমাণ মজুরি পায় ওরা তা পায় না। তাই ওদের আয়ও কম। কিন্তু ওরাও শ্রমিক, শিশুশ্রমিক। কিন্তু শ্রমের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কর্মজীবি শিশুদের দুরন্ত শৈশব এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাচ্ছে। ১৪ বছরের কম বয়সী ছেলে বা মেয়েকে গৃহকাজের শ্রমে নিয়োগ না করতে হাইকোর্টের রায় থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
২০১৫ সালে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হলেও সেটাকে আইনে পরিণত করা সম্ভব হয়নি। রাজধানীতে কোন বাসায় কে থাকছে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকার কারণে এসব শিশুর প্রতি হওয়া অনাচারের বিচার করা সম্ভব হচ্ছে না, বলছেন অধিকারকর্মীরা। বাসায় যে শিশুরা কাজ করে, তাদের কাজটাকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকাভুক্ত করা দরকার উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সমন্বয়কারী সাফিয়া সামি বলেন, ‘আমাদের যে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল ২০১৫ সালে, সেটা আইনে পরিণত করা এবং শিশুদের বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ রাখা জরুরি। উন্নয়নকর্মীদের ঘোষণা দিতে হয় যে, তারা বাসায় কোনও শিশু শ্রমিক রাখতে পারবে না। সরকারি চাকুরেদের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম করলে অর্ধেক অনাচার-নির্যাতন কমে আসবে। অনেকেই বলেন, এই শিশুরা ঘরে নিরাপদে থাকার সুযোগ পায়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণা ভিন্ন কথা বলে। এই শিশুরা বাসায় যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়।’ ২০২৩ সালে শ্রম আইন সংশোধন করা হলেও তাতে গৃহশ্রমিকদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। শ্রমিকের মর্যাদা না থাকায় তারা কোনো সুযোগ সুবিধাই পায় না। অন্যান্য শ্রমের ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা থাকলেও গৃহকর্মে সহায়তাকারীদের তা নেই। যেহেতু তা শ্রম আইনে নেই, তাই কোনো অভিযোগও খাটে না গৃহকর্মীদের। গৃহকর্মী শিশুরা পায় না শিক্ষার অধিকার কিংবা খেলাধুলার অবসর পায় না বলেও জানান সাফিয়া সামি।
রাজধানীতে গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। আর ৩১ দশমিক ৪৫ শতাংশ গৃহকর্মী অত্যধিক কাজের চাপে থাকে। অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) পরিচালিত ‘সিচুয়েশন অব চাইল্ড ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স ইন ঢাকা সিটি’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন এএসডির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ১২টি থানা এলাকায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। ৩৫২ জন গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু এই জরিপে অংশ নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ শারীরিক আঘাতের শিকার। মারধরের শিকার ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ, বকাঝকার শিকার ২০ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং যৌন নির্যাতনের শিকার ১ দশমিক ৭ শতাংশ। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
২০২৩ সালে প্রকাশিত বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, গৃহকর্মীদের ৬৭ শতাংশ মানসিক নির্যাতন, ৬১ শতাংশ মৌখিক এবং ২১ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটে মৃত্যুর ঘটনাও। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে প্রীতি উরাং নামের ১৫ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। প্রীতির মৃত্যুর ছয় মাস আগে একই বাসা থেকে পালাতে গিয়ে আহত হয় ফেরদৌসী নামের ৯ বছরের এক শিশু। মামলা করা হলেও অভিযুক্ত আশফাকুল হক ফেরদৌসীর চিকিৎসা আর দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েই সেই মামলা থেকে অব্যহতি পান। অথচ ফেরদৌসী এখনো ঠিকমতো হাঁটাচলা বা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে না। তার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় দিন কাটে তার পরিবারের।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা মহামারির ফলে শিশুশ্রম আরো বহু গুণে বেড়ে গিয়েছে।
আইএলওর জরিপ অনুযায়ী, পৃথিবীতে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ। প্রতি ছয়জন শিশুর মধ্যে একজন শিশুশ্রমে নিযুক্ত। পাচার, সন্ত্রাস, নির্যাতন প্রভৃতি কারণে প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার শিশু মারা যায়। শ্রম অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ৬৯ লাখ শিশুশ্রমিক রয়েছে। ইউনিসেফের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশে শিশুর সংখ্যা ছয় কোটিরও বেশি। ৯০ শতাংশ প্রাথমিকভাবে স্কুলে গেলেও শিক্ষা সমাপ্ত করার আগেই অর্ধেকের বেশি ছেলেমেয়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। বিশ্বখাদ্য সংস্থার এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ শিশুশ্রম দিচ্ছে শুধু খাদ্যের বিনিময়ে। ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিশুকে মজুরি দেওয়া হলেও এর পরিমাণ শিশু আইনের তুলনায় নগণ্য।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং ইউনিসেফ পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী দেশের শহরাঞ্চলে প্রায় ৩০০ ধরনের অর্থনৈতিক কাজে শিশুরা শ্রম দিচ্ছে। এক সমীক্ষায় ৭০৯টি কারখানার মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, মোট ৯ হাজার ১৯৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ৪১.৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৮২০ শিশু। এই শিশুশ্রমিকদের অধিকাংশেরই বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই মানা হচ্ছে না শ্রম আইন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুকে শিশুশ্রম থেকে প্রত্যাহারে ছয় মাসের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং চার মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ শিশুরা প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে উপবৃত্তি পাবে। উপবৃত্তির এ অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এক লাখ শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থেকে প্রত্যাহার করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থেকে শুধু এই এক লাখ শিশুকে প্রত্যাহারই নয়, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম থেকে শিশুদের প্রত্যাহার করা হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে শিশুশ্রমমুক্ত উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
‘জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ’র ১২তম সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনে বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো হয়। গ্রাম-গঞ্জে ইটভাটাসহ বিভিন্ন সেক্টরে শিশু শ্রম বেশি পরিলক্ষিত হয়। যা কখনো কাম্য নয়। বর্তমান সরকার সকল সেক্টরে শিশু শ্রম নিরসনে বদ্ধপরিকর। বলেন, এ অবস্থার পরিবর্তনে এগিয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা আরো বলেন, “শিশুশ্রম কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি পুরো বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও সংগঠনকে নিজ নিজ দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করা প্রয়োজন। শিশুশ্রম নিরসনে কার্যক্রমগুলো নির্দিষ্ট করতে হবে। জাতীয় কমিটির মাধ্যমে ঠিক করবো, কোন সংস্থা কীভাবে কাজ করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি এনজিওগুলোও তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করবে। শিশু শ্রম নিরসনে কর্মশালা আয়োজন করে কমিটির কার্যপরিধি চূড়ান্ত করা হবে। আইএলও কনভেনশন-১৩৮ এ শিশুশ্রম বন্ধ সম্পর্কে বলা আছে। আমরা আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শিশুশ্রম বন্ধে কাজ করছি বলেও জানান তিনি।
অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এএসডি’র নির্বাহী কমিটির সভাপতি ড. আলতাফ হোসেন বলেন, দেশে শিশুদের সুরক্ষার জন্য নীতিমালা থাকলে হবে না। এই নীতিমালা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন না করা গেলে কোনো প্রকার কাজই হবে না। ঠিক কত ঘরে এই শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে সে পরিসংখ্যানও আমাদের কাছে নেই। আমরা কেবল তখনই জানি যখন তা আলোচিত হয় কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নয়তো পুরো বিষয়টিই চাপা পড়ে যায়। এক্ষেত্রে আইনের যথোপযুক্ত প্রয়োগ হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে এই শিশুদের সুরক্ষার জন্য আমাদের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেই। যদি আমরা সমন্বিত ভাবে উদ্যোগ নিই তবে গৃহকর্মে নিযুক্ত শিশুদের সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও তার যথার্থ প্রয়োগ নেই। ফলে আইন অমান্য করে মালিকপক্ষ অনেক কম বেতনে শিশুশ্রমিকদের নিয়োগ দিচ্ছে। তারা শিশুদের সঠিক মর্যাদা দিচ্ছে না। মালিকপক্ষ শিশুদের দিয়ে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করিয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে সব ধরনের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশ থেকে সব ধরনের শিশুশ্রম নির্মূল করতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ’ কাজ করছে। সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের পুনর্বাসন এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর বিকাশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বিষয়ক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে।