ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিল আমিরাত

খেলাধুলা ডেস্ক:

 

একাদশে আসল বেশ কয়েকটি পরিবর্তন। তবে বড় স্কোর গড়ায় তাতে পড়ল না প্রভাব। তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত এক ফিফটির সাথে অন্য ব্যাটারদের সম্মিলিত অবদানে দুইশ প্লাস স্কোর পেয়ে জয়ের সুবাসই পাচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে বিশ্বাসকে সঙ্গী করে সাহসী ক্রিকেট খেলল সংযুক্ত আরব আমিরাত। অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। শেষের দিকে কিছুটা পথ হারালেও নিজের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েই মাঠ ছাড়ল স্বাগতিকরা

 

শারজাহতে দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হেরেছে ২ উইকেটে। ৫ উইকেটে ২০৫ রান তুলেছিল সফরকারীরা। ১ বল হাতে রেখেই সেই রান তাড়া করেছে আমিরাত। তাতে সিরিজে সমতা এখন ১-১ ব্যবধানে।

 

 

 

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ আগামী বুধবার একই ভেন্যুতে।

 

 

বিশাল রান তাড়ায় ঠিক আগের ম্যাচের মতোই ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই চড়াও হন আমিরাতের ওপেনাররা। শরিফুল ইসলামের করা ইনিংসের প্রথম বলেই আসে চারের মার। দ্বিতীয় ওভারে তানভীর ইসলাম হজম করেন চার ও ছক্কা।

 

 

তানজিম হাসান সাকিবের প্রথম ওভারেও আসে ১১ রান। তবে ঝড় বয়ে যায় অভিষিক্ত নাহিদ রানার ওপর দিয়ে। গতিময় এই পেসারের এই ফরম্যাটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ডেলিভারিটিই হয় নো বল। ফ্রি-হিটে খান ছক্কা, যেটা হয় আরেকটি নো বল। আরও দুই চার হজমে শেষ পর্যন্ত ওভারে গুনেন ১৮ রান।

 

 

ছয় ওভারে ৬৮ রান তুলে আমিরাত শিবিরে জয়ের আশা বাড়িয়ে দেন ওয়াসিম ও মুহাম্মদ জোহাইব। সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করার পথে ফিরতি স্পেলেও নাহিদকে বেদম মার দেন আমিরাত অধিনায়ক। তিনটি চার সহ এই দফায় নাহিদ দেন ১৪ রান।

 

 

শেষ পর্যন্ত ১০৭ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনার ৩৮ রানে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান জোহাইবকে। এরপর রাহুল চোপড়াকে ফিরিরে দেন রিশাদ হোসেন।

 

 

 

তবে সেই চাপ সরিয়ে বড় শটের পসরা সাজিয়ে বাংলাদেশ বোলারদের দিশেহারা করে ফেলেন ওয়াসিম। সাথে যোগ দেন আগের ম্যাচে ঝড়ো এক ইনিংস খেলা আসিফ খান, তানজিমকে হাঁকান টানা দুই ছক্কা।

 

 

বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ যখন ক্রমেই ফসকে যাওয়ার পথে, সেই সময়ে ত্রাতা হিসেবে হাজির হন শরিফুল। টাইমিংয়ে গড়বর করে বিপজ্জনক ওয়াসিম ক্যাচ তুলে দেন উইকেটের পেছনে, যা গ্লাভসবন্দী করতে ভুল হয়নি জাকেরের। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় ওয়াসিমের মাত্র ৪২ বলে ৮২ রানের টর্নেডো ইনিংস।

 

 

 

নিজের তৃতীয় ওভারেই খরুচে নাহিদ দুটি চার হজম করলেও ফেরান আফিফ খানকে। দুর্দান্ত এক স্পেল করা রিশাদ তার শেষ ওভারে দেখা পান উইকেটের। নাহিদকে একটি ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দেওউয়া আরিয়ানশ শর্মা ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন একই বোলারের হাতে।

 

 

 

নাহিদ তার স্পেল শেষ করেন চার ওভারে ৫২ রানে ২ উইকেট নিয়ে। ২০ ওভারে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে অভিষেকে ৫০ বা তার বেশি রান দিয়েছেন ইবাদত হোসেন ও শরিফুল।

 

 

১৯তম ওভারে প্রথম বলে শরিফুল উইকেট পেলেও নার্ভ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন এরপর। চার ও ছক্কা তো হয়ই, সাথে তার করা ওভারথ্রো থেকে বাড়তি চারটি রানও পেয়ে আমিরাত। শেষ ওভারে তাতে সমীকরণ দাঁড়ায় জয়ের জন্য মাত্র ১২ রানের।

 

 

 

তানজিমের করা দ্বিতীয় ডেলিভারি ছিল লো ফুলটস, মিড অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে দেন ধ্রুব পারেশ্বর। তবে পরের বলে ঘুরে দাঁড়ান বোলার। স্লোয়ারে করে দেন বোল্ড। তবে শেষ পর্যন্ত আর তাল সামলাতে পারেননি তানজিম। প্রথমবারের মত বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয় আমিরাত।

 

 

 

চার পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজানো বাংলাদেশ ম্যাচটি খেলতে নামে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান পারভেজ হোসেন ইমনকে ছাড়াই। চোটের কারণে তাকে দেওয়া হয় বিশ্রাম। অধিনায়ক লিটন ওপেন করতে নেমে শুরু থেকেই ছিলেন না সাবলীল।

 

 

 

তবে অন্যপ্রান্তে তানজিদ ছিলেন ঠিক বিপরীত ছন্দে। প্রথম ওভারেই একটি ছক্কার পাশাপাশি তার ব্যাট থেকে আসে দুটি চার। তার সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা আগ্রাসন দেখিয়ে টানা দুটি বাউন্ডারি হাঁকান লিটন। ১০ রানে ধ্রুভ পারেশ্বরের বলে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।

 

 

এরপর তাকে দর্শক বানিয়ে ঝড় তোলেন তানজিদ। চার-ছক্কার মহড়ায় মাত্র ২৫ বলে করে ফেলেন ফিফটি, যা তাকে জায়গা করে দেয় দারুণ এক রেকর্ডবুকে।

 

 

 

তানজিদ ফিফটি অর্ধশতক পূরণ করেন পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন কেবল দুজন। প্রথম জন ছিলেন নাজিমুদ্দিন, ২০০৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। আর অন্যটি লিটনের করা, ভারতের বিপক্ষে ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপে।

 

 

 

এই ম্যাচে অবশ্য লিটন অধিকাংশ সময় জুড়েই খোলসবন্দী ছিলেন, রান করেছেন তবে ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছেন কয়েকবার। ৯০ রানের জুটিতে মূল অবদান রাখা তানজিদ অবশ্য প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন করেই আউট হন ৫৯ রানে। মাত্র ৩৩ বলের ইনিংসটি সাজান ৮টি চার ও ৩ ছক্কায়।

 

 

 

এই সিরিজ দিয়েই টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর শুরুটা হয় উড়ন্ত। ক্রিজে গিয়েই কয়েকটি বড় শটে প্রথম ৯ বলে করে ফেলেন ২০ রান। তবে এরপর কিছুটা ধীরলয়ে এগিয়ে যায় তার ইনিংস।

 

 

 

প্রায় একই চিত্র ছিল লিটনের ব্যাটেও। ক্রিজেব ভালোভাবেই সেট হলেও পারেননি রানের গতি বাড়াতে। ৪০ রান করতে বল খেলে ফেলেন ৩২টি। তবে পাল্টা আক্রমণে আমিরাতের বোলারদের চাপে ফেলে দেন তাওহীদ হৃদয়। হায়দার আলিকে ছক্কার মারার পরের ওভারে চার ও ছক্কায় ওড়ান মুহাম্মদ ওয়াসিমকে।

 

 

 

২৭ রানে শান্তর বিদায়ের পরও তাই পথ হারায়নি বাংলাদেশের ইনিংস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যামিও উপহার দেন জাকের আলি অনিক। মুহাম্মদ জাওয়াদুল্লাহর শিকার হওয়ার আগে তারই ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারে আদায় করেন ১৬ রান। জাকের খেলেন ৬ বলে ১৮ রানের ইনিংস।

 

 

 

ফিফটির দিকে এগিয়ে যাওয়া তাওহীদকে থামতে হয় পাঁচ রান দূরে থাকতে। সাঘির খানের বলে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৪ বলে ৪৫ রান করে। তবে তার এই ইনিংসে কারণেই শেষ ওভারে মাত্র চার রান বোর্ডে জমা হওয়ার পরও বাংলাদেশ পায় ২০০ পার করা স্কোর। তবে তাতেই শেষ রক্ষা আর হয়নি।

 

সূত্র: টি স্পোর্টস।

এই বিভাগের আরো খবর