কুয়েটে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে এই সংঘর্ষ কুয়েটের পাশ্ববর্তী রেলিগেট ও তেলিগাতিসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাসসহ আশপাশ এলাকা।

 

এতে একজন শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের কুয়েটে মেডিক্যাল সেন্টার ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাসের বাইরে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত সোমবার কুয়েট শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া চলছিল। গত সোমবার তারা ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণ করে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে।

 

পরে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিত-া হয়। বেলা ১২টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে। এ সময় তারা ‘ছাত্র রাজনীতি ঠিকানা, এই কুয়েটে হবে না’, ‘দাবি মোদের একটায়, রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস চাই’, ‘এই ক্যাম্পাসে হবে না, ছাত্র রাজনীতির ঠিকানা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হলগুলো প্রদক্ষিণ করে। এরপর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

 

এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দুপুর দুইটার দিকে কুয়েট পকেটগেটের বাইরে বিএনপি সমর্থিত বহিরাগতরা একজন ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে শিক্ষার্থী একজোট হয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় ক্যাম্পাস সংলগ্ন রেলিগেট ও তেলিগাতিসহ আশপাশ এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের সঙ্গে যোগ দেয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। দুপক্ষের সংঘর্ষে কুয়েটের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ইলিয়াস, খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন, শিক্ষার্থী আখেরুল ইসলাম, তানভীর হায়দার, খুলনা মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম, জেলা কমিটির আহবায়ক তাসনিম আহমেদ, রাতুলসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

 

কুয়েটের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি নিয়ে ভিসির কাছে গেলে ছাত্রদলের ছেলেরা আমাদের হুমকি দেয়। তারা সিনিয়রদের লাঞ্ছিত করে। আমরা ভিসির কাছে এই বিচার দিয়ে বের হয়ে আসার পর বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। পরে আশপাশের এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তারা আবার হামলা চালায়। এতে অসংখ্য ছাত্র আহত হয়েছে। এই আহতের সংখ্যা শতাধিক হবে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা জেলা কমিটির মুখপাত্র মিরাজুল ইসলাম ইমন বলেন, বিনা উস্কানিতে ছাত্রদলের কর্মীরা ছাত্রদের রক্ত ঝরিয়েছে। তারা কুয়েটের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলামকে রামদা দিয়ে কুপিয়েছে। জেলার আহ্বায়ক তাসনিম ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব রাতুলের পা ইট দিয়ে থেতলে দিয়েছে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাছুদ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বলেন, আমি আহত ছাত্রদের দেখতে বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে রয়েছি। তবে পরিস্থিতি ভালো না। ক্যাম্পাসে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

খানজাহান আলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

খুললাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান হাবিব বলেন বিষয়টি শুনেই আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। তবে কিভাবে এমন ঘটনা ঘটলো সেটি আমরা জানার চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে। কতজন আহত হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটি সঠিক হিসাব আমাদের কাছে নাই খবর নিয়েপড়ে জানাতে পারব।

 

এই বিভাগের আরো খবর