চরফ্যাশনে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব! গভীর রাতে পাচার, প্রশাসন নীরব

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার চরফ্যাশনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। নিষিদ্ধ সময়ে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় অবাধে ইলিশ শিকার করে কামানো হচ্ছে মোটা অংকে টাকা। এসব কর্মে রয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মালিকপক্ষ ও স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কিছু অসাদু লোকজন। প্রশাসনের এসব লোকজনকে মোটা অংকে ম্যানেজ করেই চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। স্থানীয়ভাবে কিছু ইলিশ প্রকাশ্যে হাকডাক দিয়ে বিক্রি করছে তারা। সিংহ ভাগ মাছ পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। দেশের যেখানেই যাচ্ছে মাছ, আর সেখান থেকেই আসছে বরফ। এই বিনিময়ের মাধ্যমে মেঘনা তেতুলিয়ার মাছ শিকারে মেতে উঠেছে জেলেরা। এসব অপকর্ম স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকায়। মাঝে মধ্যে দায়সারা অভিযানের যাচ্ছে প্রশাসন।

 

তবে এরই মধ্যে পৃথক ঘটনায় প্রায় আট বস্তা মা ইলিশ জব্দ করেছে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ এবং বরফভর্তি একটি গাড়ি আটক করে শশীভূষণ থানা পুলিশ।

 

 

স্থানীয় অনেকে খুব প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনের অনেককে কল করলে তারা ফোন রিসিভ করেনা। করলেও তা পাত্তাই দিচ্ছে না। উল্টো অসাধু মালিকপক্ষ ও জেলেদেরকে সংবাদ পৌঁছে দেয়। প্রশাসনের খবর দেয়া মানে হলো কোন ফল পাওয়া নয়। পাওয়া যায় শুধুই ধিক্কার শত্রুতা।

 

রবিবার ১৮ অক্টোবর গভীর রাতে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খেজুড়গাছিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিধন করা মা ইলিশ পাচারের উদ্দেশ্যে বরফ ভর্তি গাড়ি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা গাড়ির নম্বর: খুলনা মেট্রো- উ ১১-০০৭৭।

 

 

সোমবার ১৯ অক্টোবর সকালে কুকরি মুকরি থেকে আসা প্রায় আট বস্তা ইলিশ জব্দ করে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ। তবে এমন ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

 

 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনার কুকরী-মুকরীর দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মা ইলিশ শিকার চলছে। স্পিডবোটে গলাচিপা হয়ে বিভিন্ন স্থানে ইলিশ পাচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ডিপ ফ্রিজে ইলিশ মজুত এবং মাছ কেটে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের অভিযোগও রয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বে নিয়োজিত মৎস্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই একটি অসাধু চক্র নিয়মিত নদী থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে বিভিন্ন জেলায় পাচার করে আসছে তারা। অসাধু চক্রটির মাছ শিকারে এমন বেপরোয়া হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সামরাজ মৎস্য ঘাটের জেলেদের অনেকে জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় একটি চক্র প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবরোধের প্রথম থেকেই কিছু মৎস্য ট্রলার বরফ লোড দিয়ে সামরাজ মৎস্য ঘাট সহ বিভিন্ন ছোট ছোট খালে ঘাপটি মেরে বসে আছে। তাদের ইচ্ছেমতো সুযোগ বুঝে প্রতি রাতে কিছু ট্রলার চলে যায় মেঘনা-তেতুলিয়ায়। এদেরকে শেল্টার দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ট্রলার মালিক।

 

শুধু তাই নয়, তেতুলিয়া পাড়ের বেশ কিছু জেলে ও মালিকপক্ষরা জানায়, আইনের শ্রদ্ধাশীল হয়ে তারা নদীতে যাচ্ছে না। অথচ একটি চক্র প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন মাছ শিকারে যাচ্ছে তারা। কামাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এমন তথ্য প্রশাসনকে দিলেও তারা কোন পাত্তাই দিচ্ছে না। তাদের অনেককে কল দিলে কল রিসিভ করেনি। তাহলে আমরা কি এদেশের নাগরিক না। তাহলে আমরা কেন নদীতে যেতে পারছিনা। এই প্রশ্নটি প্রশাসনের প্রতি আমাদের। এক দেশে দুই নীতি এটা আমরা মানতে পারিনা।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে ও তথ্যদাতা জানায়, উপজেলার তেতুলিয়ার কোল ঘেসে সুকনা খালি খালে, গজারিয়া খালগোড়া, আব্দুল্লাহপুরের ডালিরহাট, মাইনুদ্দিন মৎস্য ঘাট, সামরাজ মৎস্য ঘাট, নতুন স্লুুইজ মৎস্য ঘাট, লালমোহন ও চরফ্যাশন সীমান্তবর্তী বেতুয়া ফ্লুইজ মৎস্যঘাট সহ বেশ কিছু খালে অবস্থানরত আছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এসব ট্রলারে হাজার হাজার বরফ ক্যান রয়েছে। প্রতি রাতে সুযোগ বুঝে তারা মেঘনা তেতুলিয়ায় মাছ শিকারে যায় তারা। এদেরকে সুযোগ করে দেয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রভাবশালীদের সাথে যোগাযোগ থাকে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু লোকজন।

 

এসব বিষয় সত্যতা জানতে একাধিকবার ফোন করেও কল রিসিভ না করায় মৎস্য বিভাগের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে এলাকাটিতে প্রশাসনের অভিযান জোরদার এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

এই বিভাগের আরো খবর