সময়ের চিত্র রিপোর্ট:
দেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নির্মম ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সমাজজুড়ে।
বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে আরও অন্তত ৪৬ শিশুর ওপর। এছাড়া ধর্ষণের পর অন্তত ১৭ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয় নয়; বরং এটি সমাজের নৈতিক সংকট ও শিশু সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতারও প্রতিফলন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক সচেতনতা এবং কার্যকর জবাবদিহি ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় শিশু নীতি ও আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদেও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রের অঙ্গীকার রয়েছে। তবে বাস্তবে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত না করা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ধরনের অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বলছেন, অনেক অপরাধী মনে করছে ভয়াবহ অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।
বিশেষজ্ঞরা শিশু সুরক্ষায় একটি পৃথক “চাইল্ড প্রোটেকশন কমিশন” গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিতে আলাদা ও শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা মনে করছেন, শিশু সুরক্ষার বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের জায়গায় আসেনি। যদিও জাতীয় নির্বাচনের আগে কয়েকটি রাজনৈতিক দল শিশু অধিকার সুরক্ষায় অঙ্গীকার করেছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের মানবিক ও নৈতিক দায়ও বটে। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সব পক্ষকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।