সময়ের চিত্র ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর আগে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণত বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করান। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, বিগত সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং পদত্যাগ করেননি।
সংবিধানের ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথের সুযোগ থাকলেও ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন। সেই বিধান অনুসারেই মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার শপথ দক্ষিণ প্লাজায়
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এ অনুষ্ঠান সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে হয়।
নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন মন্ত্রীদের জন্য যানবাহন ও সরকারি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ:
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে—ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, তুরস্ক ও ব্রুনেই।
পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া:
সংসদ সদস্যদের শপথের পর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। পরে সেই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন সংবিধান অনুযায়ী তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।