সময়ের চিত্র ডেস্ক:
দেশজুড়ে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ আবহে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন বিভিন্ন কেন্দ্রে গণনা কার্যক্রম চলছে।
ভোটের দিন ভোরের আলো ফুটার আগেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। নারী, পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সী ভোটারের অংশগ্রহণে অধিকাংশ কেন্দ্রেই ছিল উৎসবের আমেজ।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবার বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটগ্রহণ সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন অনিয়ম বা গোলযোগের অভিযোগ ওঠে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
এবারের ভোটে নাগরিকরা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধানের মৌলিক সংস্কার সংক্রান্ত ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেন। ফলে ভোটাররা একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত জানানোর সুযোগ পান।
দিনজুড়ে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও ভোট নিয়ে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি ছিল। প্রার্থীদের বুথে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও বড় কোনো সংঘাত বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় এদিন ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন।
সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অংশ নেয় ৫০টি রাজনৈতিক দল। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।