সময়ের চিত্র ডেস্ক:
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে বিকাল ৪টার দিকে বিক্ষোভকারীরা যমুনার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। পরে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এমন দাবি করে তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট করে জানায়, যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়নি বলে সরকার পুনরায় নিশ্চিত করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটেই পুলিশ আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও এ ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের তথ্যমতে, সংঘর্ষের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে জানানো হয়, আহতদের কারও শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
এছাড়া আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।