সময়ের চিত্র ডেস্ক :
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত দুই পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম সোমবার এ দুই মামলায় ৬৪ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন। এর মধ্যে যেসব আসামি পলাতক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন।
দুই মামলাতেই শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে এবং উভয় মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ড ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এরই মধ্যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি প্লট দুর্নীতির পাঁচটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তার কারাদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক আরও বহু মামলায় তার নাম আসামির তালিকায় রয়েছে।
হোসেন হত্যা মামলা:
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাকচালক মো. হোসেন। এ ঘটনায় আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামের আরও দুজন।
হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান গত ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
এই মামলায় ২০ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এ মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় ১০ জন জামিনে আছেন।
সবুজ হত্যা মামলা:
অভ্যুত্থানের শেষ দিকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সবুজ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সবুজের ভাই মনির হোসেন ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
প্রাথমিক এজাহারে শেখ হাসিনা ও কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম না থাকলেও তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম গত ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এই মামলায় ২১ জন আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পলাতকদের তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নুরনবী চৌধুরী শাওনের নাম রয়েছে।
এ মামলায় সাদেক খানসহ তিনজন কারাগারে এবং ছয়জন জামিনে রয়েছেন।